২৮ বছর ধরে বিজেপি কর্মীদের বিলিয়েছেন চা, এবার তাকেই প্রার্থী করল গেরুয়া শিবির

Published:

Ramesh Bhil

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজনীতির ময়দানে দলীয় নেতা মন্ত্রীদের কাছে নিবার্চনের টিকিট পাওয়া যেন এক অমূল্য সম্পদ।শত কষ্ট করে শীর্ষ নেতৃত্বের মন জয় করে টিকিট হেফাজতে আনা খুব একটা যে সহজ কাজ নয়, তা প্রায়শই চোখে পড়ে আমাদের। এমনকি অনেক নেতা মন্ত্রীকে দেখি আবার নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে দলবদল করে, তবে এবার গুজরাটের মেহসানা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন নির্বাচনে (Gujarat Mehsana Corporation Election) প্রার্থী পরিবেশনে বড় চমক আনল বিজেপি। পিয়ন রমেশ পোপটলাল ভিলকে (Ramesh Bhil) করা হল প্রার্থী।

বিজেপি প্রার্থী করা হল চা-ওয়ালাকে

রাজনীতিতে সাধারণত দেখা যায় যে টিকিট পাওয়ার জন্য বড় নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ টানাপোড়েন চলে। তবে এবার গুজরাটের মেহসানা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী করল মেহসানা জেলা বিজেপি কার্যালয়ে একজন পিয়ন রমেশ পোপটলাল ভিলকে। জানা গিয়েছে তিনি গত ২৮ বছর ধরে বিজেপি অফিসে পিয়ন হিসেবে কর্মরত। শুধু তাই নয় বিজেপি কর্মীদের চা পরিবেশনও করে আসছেন, এবার তাঁকেই প্রার্থী করল গেরুয়া শিবির। ব্যাপক খুশির রেশ দেখা গিয়েছে এলাকায়। আসলে কোনো লোভ বা বড় পদের আশা ছাড়াই দীর্ঘ দুই দশক ধরে দলের সেবা করে যাওয়ার জন্য পুরস্কার হিসেবে দল তাঁকে আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী করেছে।

বিজেপির দেওয়া সম্মানে বেশ খুশি রমেশ

গুজরাটের মেহসানা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজেপির টিকিট মেলায় বেশ খুশি রমেশ পোপটলাল ভিল। তিনি জানিয়েছেন, যখন আমি দলীয় কার্যালয়ে যোগ দিয়েছিলেন, তখন সেটি ছিল খুবই ছোট একটি কার্যালয়। মাসে মাত্র ৫০০ টাকা বেতনে পিয়ন হিসেবে চাকরি শুরু করেছিলাম। কিন্তু এখন সেই বেতন দশ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। সংসারের হাল খারাপ থাকলেও আমি কখনো টাকার দিকে তাকাইনি, চিরকাল দলের সেবা করেছি। আর সেই কারণে আজ আমাকে এত বড় পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অন্য কোনো দলে সাধারণ কর্মীরা এত সম্মান পায় না।”

আরও পড়ুন: টানা পাওয়ার ব্লক, শিয়ালদহ ডিভিশনে বাতিল বহু লোকাল ট্রেন, তালিকা দিল পূর্ব রেল

উল্লেখ্য, অতীতে রমেশ পোপটলাল ভিলের স্ত্রীকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের এসটি আসন থেকে বিজেপি টিকিট দিয়েছিল। সে সময় ওই এলাকাটি কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি থাকলেও তাঁর স্ত্রী কংগ্রেস প্যানেলকে পরাজিত করে বিপুল জয় অর্জন করেছিল। তাই এবারও রমেশ আত্মবিশ্বাসী যে জনগণ তাঁকে সমর্থন করবে এবং তাঁর পুরো প্যানেল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হবে। তবে এই ঘটনাটি কর্মীদের কাছে প্রমাণ করে দিল যে, নিষ্ঠার সাথে কোনো কাজ করলে সাধারণ কর্মীরাও যে কোনো সময় বড় সুযোগ পেতে পারেন।