বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: চিরকালই বিশ্বের বিরল খনিজ সম্পদের উপর একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে এসেছে চিন। যা গোটা বিশ্ববাসীর জন্য উদ্বেগের সে কথা বলাই যায়। সবচেয়ে বড় কথা ভারতের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের কাছে বিরল সম্পদে ড্রাগনের আধিপত্য যথেষ্ট চিন্তার। এবার সেসব দিক মাথায় রেখেই বড় চুক্তিতে সই করল নয়া দিল্লি (India-Brazil Rare Earth Deal)। জানা যাচ্ছে, বিরল খনিজ সম্পদের উপর শি জিনপিংদের একাধিপত্য রুখতে এবার ব্রাজিলের সাথে খনিজ সংক্রান্ত চুক্তিতে সই করেছে ভারত। রবিবার, হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভারের একান্ত বৈঠকের পরই বিশেষ চুক্তিতে সম্মত হয় দুই দেশ।
চিনকে বড় ধাক্কা ভারত এবং ব্রাজিলের!
রবিবার, বিরল খনিজ সম্পদ সংক্রান্ত বিশেষ চুক্তিতে ব্রাজিলের সাথে হাত মেলানোর পরই কেন্দ্রের তরফে দাবি করা হচ্ছে, এই বিশেষ চুক্তিকে শুধুমাত্র বাণিজ্যিকভাবে দেখলেই হবে না। ভারত এবং ব্রাজিলের এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি আগামীতে ভূকৌশলগত দিক থেকে ভারতকে অনেকটাই এগিয়ে রাখবে। সাউথ ব্লক মনে করছে, বিরল সম্পদের উপর চিনের যে একচেটিয়া বিস্তার সেক্ষেত্রে ভারতও ধীরে ধীরে তাতে ছাপ রাখতে পারবে।
ব্রাজিলের সাথে বিশেষ চুক্তিতে সই করার পরই এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একেবারে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন, “স্থিতিশীল বন্টন ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের এই চুক্তি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এটি পারস্পরিক বিশ্বাস এবং কৌশলগত বোঝাপড়ার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।” আসলে বিগত দিনগুলিতে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে নিজেদের ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে চলেছে ভারত। বিরল খনিজ নিয়ে দেশগুলির সাথে একের পর এক সহযোগিতা চুক্তি করেছে নয়া দিল্লি। এর উদ্দেশ্য একটাই, বিরল খনিজ নিয়ে চিনের উপর থেকে নির্ভরশীলতা পুরোপুরি কমিয়ে আনা। সেই মতোই, সফলভাবে এগিয়ে চলেছে কেন্দ্রীয় নীতি। বলে রাখা প্রয়োজন, বিরল খনিজের বিপুল মজুদের নিরিখে অর্থাৎ বিরল খনিজ সম্পদের পরিমাণের নিরিখে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ব্রাজিল।
Outros pilares fortes da amizade entre a Índia e o Brasil são setores como energia, agricultura, minerais críticos, educação, defesa e questões multilaterais. Nossas discussões de hoje também incluíram como fortalecer os laços entre os povos de nossas nações. pic.twitter.com/VTXT24NaR0
— Narendra Modi (@narendramodi) February 21, 2026
অবশ্যই পড়ুন: বিশ্বকাপের পরই ফের মুখোমুখি হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান! বড় সিদ্ধান্ত নিল BCCI
প্রসঙ্গত, এদিন বৈঠকের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি খুব পরিষ্কারভাবে জানান, ভারত এবং ব্রাজিল চিরকালই একে অপরের পাশে থেকেছে। বিরল খনিজ সম্পদের দিক থেকে হোক কিংবা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে, সব দিকেই গ্লোবাল সাউথের মুখ উজ্জ্বল করে চলেছে দুজন। নতুন করে ব্রাজিলের সাথে ভারতের এই বিশেষ চুক্তি আগামী দিনে গ্লোবাল সাউথকে ক্রমশ শক্তিশালী করবে। সেই সাথে দৃঢ় হবে ভারত এবং ব্রাজিলের সুসম্পর্ক।












