চিনকে আটকানোই লক্ষ্য, মরিশাসের যমজ দ্বীপে গোপন ঘাঁটি গড়ছে ভারত?

Published:

India Has A Big Plan at Indian Ocean

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: চিনের সর্বগ্রাসী মনোভাব গিলে খেতে পারে ভারত মহাসাগরকেও (Indian Ocean)। এমন আশঙ্কাই জিইয়ে রেখেছে ড্রাগন। আসলে বিগত দিনগুলিতে চিন যেভাবে ভারত মহাসাগরের দখল নিতে উদগ্রীব হয়ে উঠেছে তাতে যথেষ্ট চিন্তিত ভারতও। বলাই বাহুল্য, ভারত মহাসাগরের বুকে অখ্যাত দ্বীপপুঞ্জ পূর্ব আফ্রিকার দুটি ক্ষুদ্র দ্বীপ নিয়ে গঠিত। জমজ দ্বীপ দ্বারা গঠিত দ্বীপপুঞ্জটির নাম অ্যাগালেগা। আর এই দ্বীপপুঞ্জ অর্থাৎ দুটি দ্বীপকে নিয়েই উত্তেজনা বেড়েছে ভারত মহাসাগর এলাকায়। সেই উত্তেজনায় জল ঢালতে এবং চিনের বাড়বাড়ন্ত রুখতে মেগা প্ল্যান সেরে ফেলেছে নয়া দিল্লিও।

চিনের বাড়াবাড়ি বন্ধ করতে গোপন ঘাঁটি তৈরি করবে ভারত!

মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইস এর উত্তর প্রান্ত থেকে অ্যাগালেগার দূরত্ব কম করে 1100 কিলোমিটার। উত্তর অ্যাগালেগা এবং দক্ষিণ অ্যাগালেগা দীপ দুটিকে যুক্ত করে একটি সরু বালির রেখা। ভারত মহাসাগরের এই জমজ দ্বীপে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে চিন। এদিকে ভারত মহাসাগরে ড্রাগনের দাপাদাপি বন্ধ করতে দক্ষিণে নিজেদের কৌশলগত উপস্থিতি বাড়াতে চলেছে ভারত।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ড্রাগনের লম্ফঝম্প্ আটকাতে 350 আদিবাসী নিয়ে গঠিত দক্ষিণ দ্বীপ বা ছোট্ট ভূখণ্ডটিতে নিজেদের সামরিক কৌশল বৃদ্ধির জন্য নতুন একটি ঘাঁটি তৈরি করতে পারে ভারত। যদিও ইতিমধ্যেই এই অঞ্চল ভারতের কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হতে শুরু করেছে। কমবেশি সকলেই জানেন বেশ কয়েক বছর আগেই মরিশাস সরকারের কাছ থেকে এই দুই দ্বীপ লিজ হিসেবে নিয়েছিল ভারত। এ প্রসঙ্গে ভারতের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মরিশাসের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং অ্যাগালেগার উন্নতি এবং সেখানকার বাসিন্দাদের উন্নয়নের স্বার্থে 2300 কোটি টাকার আর্থিক সাহায্য করা হবে।

চিনের নজর যে অঞ্চলে ভারত মহাসাগরের সেই অ্যাগালেগায় নয়া দিল্লির বিপুল বিনিয়োগের খবরে বেড়েছে উত্তেজনা। খবর পৌঁছেছে ড্রাগনের কানেও। কম-বেশি সকলেই বুঝতে পারছে, ভারত মহাসাগরে কিছুতেই চিনের মতো বহিরাগত শক্তির আধিপত্য বৃদ্ধি হতে দেবে না ভারত। এদিকে আল জাজিরার একটি রিপোর্ট দাবি করছে, ভারত আসলে অ্যাগালেগা দ্বীপে সামরিক ঘাঁটি তৈরির কাজ করছে। কয়েকটি উপগ্রহ চিত্র প্রমাণ হিসেবে দেখিয়ে আল জাজিরা বলেছে, ওই অঞ্চলে নিজস্ব বিমানঘাঁটি, বন্দর তৈরি করার মধ্য দিয়ে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে নয়া দিল্লি। আর এই সবটাই চিনকে দূর থেকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে।

তবে এ কথা ঠিক যে, মরিশাসের মালিকানাধীন দ্বীপে ভারতের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির দাবি চিরকাল অস্বীকার করে এসেছে নয়া দিল্লি এবং মরিশাস উভয় পক্ষই। উভয় পক্ষের তরফেই জানানো হয়েছে, নতুন এয়ার স্ট্রিট থেকে শুরু করে সেন্ট জেমস জেটি সবটাই ভারত এবং মরিশাসের কৌশলগত প্রকল্পের অংশ। বলে রাখি, 2024 সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রভিন্দ জগন্নাথ যৌথ উদ্যোগে নতুন পরিকাঠামের উদ্বোধন করেছিলেন।

অবশ্যই পড়ুন: ৩৫০০ কিমি দূরে ছুঁড়বে মিসাইল, ভারতীয় নৌসেনা পেল পরমাণু অস্ত্র বহনকারী ডুবোজাহাজ INS অরিদমন

প্রসঙ্গত, কূটনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, মরিশাসের মালিকানাধীন অ্যাগালেগায় সামরিক ঘাঁটি তৈরি করে চিনকে কঠিন বার্তা দিতে চাইছে ভারত। আসলে আফ্রিকা থেকে ভারত মহাসাগরের দিকে আসা জাহাজগুলি যাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে সেই লক্ষ্যেই ভারতের কাছে এই চেক পয়েন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গোটা বিশ্বের 90 শতাংশ বা তারও বেশি আন্তর্জাতিক ডেটা ট্রাফিক সমুদ্রতলে থাকা অপটিক্যাল ফাইবার কেবল এর মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। ভারত মহাসাগরের তলদেশ থেকে যাওয়া এই কেবলগুলি গোটা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর এই কেবল গুলির উপর যাতে কোনও ভাবেই চিন আধিপত্য বিস্তার না করতে পারে সেটাই নিশ্চিত করতে চায় নয়া দিল্লি। এক কথায় ভারত মহাসাগরে চিনের দাপাদাপি কিছুতেই সহ্য করবে না ভারত। তাই এত পরিকল্পনা। আর সেই পরিকল্পনায় নয়া দিল্লিকে সঙ্গ দিচ্ছে মরিশাস।

google button