বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: থরথর করে কেঁপে উঠবে শত্রুপক্ষ। এবার রাফাল যুদ্ধবিমানের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র হ্যামার (Rafale Hammer Missile) তৈরি করবে ভারতই। নব ভারত টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই ভারত সফরে আসবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। মূলত তিন দিনের ভারত সফরে আগামী 17 ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে তাঁর। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফরাসি প্রেসিডেন্টের ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হবে একটি বড় সমঝোতা স্মারক। আর সেই সূত্র ধরেই আগামী দিনে দেশের মাটিতেই হ্যামার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার সুযোগ পাবে ভারত। বলাই বাহুল্য, এখনও পর্যন্ত যুদ্ধবিমানের এই ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ফ্রান্সের উপরই নির্ভরশীল নয়া দিল্লি।
হ্যামার ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে জানুন
প্রথমেই বলে রাখি, হ্যামার কথার পুরো অর্থ হাইলি এজাইল মডুলার মিউনিশন এক্সটেন্ডেন্ট রেঞ্জ। এই ক্ষেপণাস্ত্র মূলত ব্যবহার করা হয় রাফাল যুদ্ধবিমানে। সকলেরই জানা হ্যামার কথার অর্থ হাতুড়ি। আসলে এই ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুর যুদ্ধবিমান বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে টার্গেট করার পর হাতুড়ি দিয়ে ধ্বংস করার মতো করেই ধুলিস্যাৎ করে থাকে। বলে রাখি, এই ক্ষেপণাস্ত্রতে রয়েছে একটি অত্যাধুনিক নির্ভুল নির্দেশিত বোমা। যা আকাশেই বিস্ফোরিত হয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে সক্ষম।
আকাশে ভাসমান যুদ্ধবিমান থেকে নিচের যেকোনও 60 থেকে 70 কিলোমিটার রেঞ্জের বাংকার সহ ছোট সামরিক গাড়িগুলিকে ধ্বংস করতে সিদ্ধহস্ত এই হ্যামার। এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওজন প্রায় 330 কেজি। কাজ করে থাকে মূলত ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট নীতিতে। এক কথায়, ভারতীয় সেনাবাহিনী যদি এই ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য একবার ঠিক করে দেয় সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করবে। এর জন্য আলাদা করে কোনও কমান্ড বা নির্দেশের প্রয়োজন পড়বে না। সবচেয়ে বড় বিষয়, এই ক্ষেপণাস্ত্র দাঁড়িয়ে থাকা অথবা চলমান যেকোনও বস্তুকে নিশানা করে ধ্বংস করতে পারে।
না বললেই নয়, দিন-রাত নির্বিশেষে যেকোনও আবহাওয়ায় যেকোনও দুর্গম পরিবেশে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিজের ক্ষমতা দেখাতে সক্ষম। এতে নেভিগেশন সিস্টেম থাকার দরুন সহজে এই ক্ষেপণাস্ত্র উধাও বা নিখোঁজ হয়ে যায় না। বলাই বাহুল্য, রাফাল যুদ্ধবিমান একসাথে 250 কিলোগ্রাম ওজনের 6টি হ্যামার ক্ষেপণাস্ত্র বহন করে সেগুলি বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
অবশ্যই পড়ুন: T20 বিশ্বকাপে ফের মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান! কবে, কীভাবে? দেখুন
প্রসঙ্গত, 2007 সালে প্যারিস এয়ার শোতে আর্মিমেন্ট এয়ার সোল মডুলেয়ার নামে প্রদর্শন করা হয়েছিল এই ক্ষেপণাস্ত্র। পরবর্তীতে 2011 সালে এটির নাম রাখা হয় হ্যামার। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলের অনেকেই মনে করছেন, ভারত যদি নিজস্ব উদ্যোগে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হয় সেক্ষেত্রে অনেকটাই শক্তি পাবে ভারতীয় বায়ুসেনা। শুধু তাই নয়, এগিয়ে চলবে প্রধানমন্ত্রীর মেক ইন ইন্ডিয়ার লক্ষ্যও।











