৩০ দিনেই LPG উৎপাদনে রেকর্ড স্পর্শ করল ভারত, গ্যাস সঙ্কট মিটবে?

Published:

LPG Production India

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় যখন যুদ্ধের কালো মেঘ ঢাকা (Middle East War), ঠিক তখনই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহন নিয়ে গোটা বিশ্বজুড়ে টানাপোড়েন তুঙ্গে। তবে সেই চ্যালেঞ্জ সামাল দিল ভারত। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেশীয় পদ্ধতিতে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি উৎপাদনে (LPG Production India) বিরাট মাইলফলক স্পর্শ করে ফেলল নয়াদিল্লি। মাত্র এক মাসের ব্যবধানেই অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়িয়ে ভারতে জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রেকর্ড স্পর্শ করল।

এলপিজি উৎপাদনে রেকর্ড পরিসংখ্যান

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দেওয়া সাম্প্রতিক এক তথ্য অনুযায়ী, ভারতে এলপিজি উৎপাদনে বিরাট পরিবর্তন এসেছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, আগে ভারতের মোট এলপিজি চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে মেটানো হতো। আর বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৬০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আগে ভারত তার মোট চাহিদার ৬০% বিদেশ থেকে আমদানি করত। আর এখন সেই সমীকরণ সম্পূর্ণ উল্টে গিয়েছে, যা ভারতের আত্মনির্ভর হওয়ার পথকে আরও ত্বরান্বিত করছে।

উল্লেখ্য, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এলপিজির যোগান স্বাভাবিক রাখার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথমত, দেশের সমস্ত রিফাইনারি বা তেল শোধনাগারগুলিকে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, রিফাইনারিগুলিকে পেট্রো ক্যামিকেল উৎপাদন সাময়িকভাবে কমিয়ে এলপিজি উৎপাদনের উপর বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছে। এমনকি বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এলপিজি সরবরাহের কিছুটা রাশ টানা গেলেও দেশের ৩৩ কোটির বেশি সাধারণ গৃহস্থলীর জন্য ১০০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করেছে সরকার।

আরও পড়ুন: লাগবে না গ্যাস, ইন্ডাকশন! জল আর সামান্য বিদ্যুতেই হবে রান্না, এল হাইড্রোজেন স্টোভ

কিন্তু দেশে উৎপাদন বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদী সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য কূটনৈতিক আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি সম্প্রতি কাতার সফর করেছেন। দেশটির জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ভারতকে আশ্বস্ত করেছেন যে, যুদ্ধ পরিস্থিতি যাই হয়ে যাক না কেন, ভারতে এলপিজি সরবরাহ চালিয়ে যেতে তারা প্রতিশ্রুতবদ্ধ। এমনকি পরিসংখ্যান বলছে, গত জানুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চ মাসে এলপিজি ব্যবহারের হার ২৬.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার কারণে মানুষ এখন বেশি সতর্ক হচ্ছেন। অনেকে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমাচ্ছেন অথবা হাইড্রোজেন স্টোভ বা ইনডাকশনের মতো জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে।