সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার কয়েক মাসের মধ্যেই আবার বিরাট পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত। জম্মু-কাশ্মীর সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইরাবতী নদীর অতিরিক্ত জল আর পাকিস্তানে প্রবাহিত হতে দেওয়া যাবে না। এমনকি ৩১ মার্চের মধ্যেই শাহপুর কান্দি বাঁধ (Shahpur Kandi Dam) প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। আর সেই বাঁধ চালু হলেই জল ব্যবস্থাপনার গোটা চিত্র বদলে যাবে।
এদিন জম্মু-কাশ্মীরের জল সম্পদ মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরাবতীর অতিরিক্ত জল পাকিস্তানে যাওয়া বন্ধ করাই এখন সরকারের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর কথায়, কাঠুয়া ও সাম্বা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা খরাপ্রবণ। তাই এই প্রকল্প স্থানীয় কৃষি এবং জল সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোথায় তৈরি হচ্ছে এই বাঁধ?
রিপোর্ট অনুযায়ী, শাহপুর কান্দি বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীর-পাঞ্জাব সীমান্তে ইরাবতী নদীর উপর। আর কৌশলগত এবং সেচ, দুই দিক থেকেই এই বাঁধ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই বাঁধ চালু হলে অতিরিক্ত জল আর মাধোপুর নালার মাধ্যমে পাকিস্তানে যেতে পারবে না। প্রসঙ্গত, প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকলেও পরবর্তীতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপরেই কাজের গতি বাড়ে এবং পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
এদিকে গত বছর এপ্রিল মাসে পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু নিয়ে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি সংযোগের অভিযোগ ওঠে। তারপর থেকেই ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এই প্রেক্ষাপটে জল ব্যবস্থাপনা এবং নদী প্রকল্পগুলিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ, পহেলগাঁও ঘটনার পর চন্দ্রভাগা নদীর উপর চারটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, যা সম্ভাব্য ২০২৮ সালের মধ্যে চালু হতে পারে।
আরও পড়ুন: T20 বিশ্বকাপে ফের মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান! কবে, কীভাবে? দেখুন
সিন্ধু জলচুক্তি কী বলছে?
১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী, ভারতের অধিকারভুক্ত নদীর তালিকায় ছিল ইরাবতী, শতদ্রু এবং বিপাশা। আর পাকিস্তানের অংশীদারিত্বে ছিল সিন্ধু, চন্দ্রভাগা এবং বিতস্তা। কিন্তু চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর ব্যবহারের কৌশলেও কিছু পরিবর্তন হয়েছে। এদিকে উল্লেখ করার বিষয়, ২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর শাহপুর কান্দি বাঁধ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। সেক্ষেত্রে মোট ৪৮৫.৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। এই বাঁধ তৈরি হলে পাঞ্জাবে মোট ৫০০০ হেক্টর এবং জম্মু-কাশ্মীরের ৩২,১৭৩ হেক্টর জমিতে সেচের সুবিধা হবে বলেই খবর। তবে এবার পড়শি দেশকে ইরাবতীর অতিরিক্ত জল না দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত তা যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে।











