সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশে কাটতে চলেছে এলপিজির সংকট (LPG Crisis)! পশ্চিম এশিয়ায় চলা উত্তেজনার জেরে যখন জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দিনের পর দিন উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় সামনে এলো বিরাট স্বস্তির খবর। হ্যাঁ, ভারতের পতাকাবাহী একটি এলপিজি পরিবাহী জাহাজ নিরাপদেই হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) অতিক্রম করল। অনলাইন জাহাজ ট্র্যাকিং পোর্টাল MarineTraffic এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের পতাকাবাহী এলপিজি পরিবাহী জাহাজ শিবালিক শুক্রবার রাত নগদ সফলভাবেই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। ফলে সংকটের মুখে দেশে এলপিজি নিয়ে দুশ্চিন্তা হয়তো দূর হতে চলেছে, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
কাতার থেকে শুরু করেছিল যাত্রা
বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী খবর, এই এলপিজি ভর্তি জাহাজটি বিগত ২৭ মার্চ কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। আর সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ তরলকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বোঝাই করেই জাহাজটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক রুট ধরে এগিয়ে যায়। এমনকি পরে তা নিরাপদে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হয়ে যায়। প্রথমদিকে কিছু কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, জাহাজটিকে ভারতীয় যুদ্ধ জাহাজ নিরাপত্তা দিয়েই নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পরে সেই দাবি নাকোচ করে ভারতীয় নৌ-বাহিনী। তাদের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই জাহাজকে কোনওরকম সুরক্ষা দেওয়া হয়নি।
এক্ষেত্রে বলে রাখি, শিবালিক একটি বৃহৎ আকারের এলপিজি পরিবাহী জাহাজ। এর কার্গো বহন ক্ষমতা আনুমানিক ৫৪ হাজার টনেরও বেশি। বর্তমানে জাহাজটি ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা শিপিং কর্পোরেশন ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন। শিপিং ডাটাবেস Equasis এর একটি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তৈরি হওয়া এই জাহাজটির প্রথম মালিক ছিল কাতার শিপিং কোম্পানি। পরে মালিকানা বদলের মাধ্যমে এটি ভারতের আওতায় আসে। এমনকি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জাহাজে থাকা এলপিজির পরিমাণ ভারতের মোট দৈনিক আমদানির প্রায় একদিনের সমান হতে পারে।
বলাই বাহুল্য, মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে সেখানে এখন তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে যে বিপুল পরিমাণ তেল বা গ্যাস বাণিজ্য হয়, তার বৃহৎ অংশই এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। কিন্তু উত্তেজনার কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যার ফলে বিশ্বের অনেক দেশে দেখা যায় জ্বালানির সংকট। তবে সেই হাহাকারের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস হয়তো ফেলতে পারে ভারত।












