বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইউনূসের বেয়াক্কেলে মন্তব্যকে এবার এক হাত নিল ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। চিনের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারত বিরোধী সুর? হ্যাঁ, কার্যত তাই! ড্রাগনের দেশে সফরকালীন সময়ে উত্তর-পূর্ব ভারতকে ‘বদ্ধ এলাকা’ বলে দাবি করেছিলেন ইউনূস। উত্তর-পূর্ব সমুদ্রে পৌঁছানোর জন্য নাকি বাংলাদেশ(Bangladesh) ছাড়া আর দ্বিতীয় কোনও উপায় নেই। মূলত নিজেদের সমুদ্রের অভিভাবক দাবি করে, আজব যুক্তি খাড়া করেছিলেন ওপার বাংলার প্রধান। এবার সেই উদ্ভট মন্তব্যের জবাব দিলেন বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
বাংলাদেশ প্রধানকে চাঁচাছোলা জবাব জয়শঙ্করের..
চিনের মাটিতে দাঁড়িয়ে যেন স্বপ্নের সিঁড়িতে চরে বসেছিলেন ওপার বাংলার প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। ভারতের উদ্দেশ্যে নরমে-গরমে মন্তব্য শানিয়েছিলেন এই নোবেলজয়ী। এবার ইউনূসের সেই মন্তব্যকে একপ্রকার নিশানা করে বসলেন বিদেশ মন্ত্রী জয়শঙ্কর। এদিন মন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরে আমাদের সর্বাধিক দীর্ঘ উপকূল এলাকা রয়েছে।
যার আয়তন কমপক্ষে 6,500 কিলোমিটার। জলভাগে ভারতের ক্ষমতা কতটা তা কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বিদেশ মন্ত্রী। জয়শঙ্কর আরও জানান, ভারত শুধুমাত্র BIMSTEC দেশগুলির সাথে সীমান্ত ভাগাভাগি করে না, তাদের সংযুক্ত করার পাশাপাশি ভারতীয় উপমহাদেশ ও এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলিকে সড়ক পথ, রেলপথ, জলপথ, পাইপলাইন ও গ্রিডের মাধ্যমে অসংখ্য নেটওয়ার্ক দ্বারা যুক্ত করে।
এদিন জয়শঙ্করের শেষ সংযোজন ছিল, বৃহত্তর ভৌগোলিক অবস্থানে পণ্য, পরিষেবা ও মানুষের সুষ্ঠ প্রবাহের জন্য আমাদের সহযোগিতা ও পরিষেবা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই কৌশল মাথায় রেখেই আমরা বিগত বছরগুলি থেকে ধীরে ধীরে BIMSTEC-কে শক্তিশালী করে তুলেছি। আমাদের বিশ্বাস, সহযোগিতা সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, বাছাই করার মতো কোনও বিষয় নয়।
ঠিক কী বলেছিলেন ইউনূস?
অতি সম্প্রতি চিন সফরে গিয়ে দেশে চিনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে এসেছেন ইউনূস। তবে সেই সাথেই তলে তলে প্রতিবেশী ভারতের বিপক্ষেও নানান ফন্দি এঁটেছেন তিনি! যেগুলির মধ্যে শিলিগুড়ির চিকেন নেকের তিস্তা নদী প্রকল্পে চিনা বিনিয়োগের আমন্ত্রণ অন্যতম। অতিরিক্ত কীর্তি হিসেবে, চিনের বুকে দাঁড়িয়ে ভারতকে কার্যত কটাক্ষ করেছেন ওপার বাংলার প্রধান।
চিন সফরকালে ভারতের উদ্দেশ্যে ইউনূসের মন্তব্য ছিল, ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল মূলত বদ্ধ এলাকা, তাদের সমুদ্রে পৌঁছানোর কোনও বিকল্প পথ নেই। এই অঞ্চলের একমাত্র অভিভাবক নাকি বাংলাদেশ। আর এই অভিভাবকত্ব দেখাতে গিয়েই এবার ভারতের সাথে ভাঙতে থাকা সখ্যতায় নতুন পেরেক পুতলেন তিনি।
অবশ্যই পড়ুন: ৩ মাসের মধ্যে নিয়োগ, কাউকে দিতে হবে না টাকা! চাকরি বাতিল মামলায় ঘোষণা মমতার
উল্লেখ্য, মহম্মদ ইউনূসের ভারত বিরোধী মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা। সম্প্রতি ওপার বাংলার প্রধানের মন্তব্যকে অবমাননাকর বলে উল্লেখ করে, বিজেপির মন্ত্রী জানান, ইউনূসের এই ধরনের উস্কানিমূলক বিবৃতি গুলিকে হালকাভাবেই নেওয়া উচিত। ইউনূসের মন্তব্যকে কাঠগড়ায় তুলেছেন মনিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংও। তাঁর মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ খবরের জন্য | Join Group |
চাকরির খবরের জন্য | Join Hood Jobs |
রাশিফলের জন্য | Join Hood Rashifal |
খেলার খবরের জন্য | Join Whatsapp |