সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে বিরাট কাজ করে ফেলল ভারতীয় রেল (Indian Railways)। এবার দীর্ঘ ১৬,৩৯৮ কিমি জুড়ে রেল যে কাজটি করেছে তা সকলকে চমকে দিয়েছে। ভারতীয় রেলের নতুন নিরাপত্তার উদ্যোগ হিসেবে দীর্ঘ ১৬,৩৯৮ কিমি জুড়ে বেড়া (Rail Line Fencing) লাগানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে করে একদিকে যেমন পশুদের সুরক্ষা হবে তেমনই ট্রেনও নির্ঝঞ্ঝাটে দ্রুত গতিতে ছুটতে সক্ষম হবে। চলুন আরও বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
১৬,৩৯৮ কিলোমিটার বেড়া বসাল রেল
রেলের তরফে ১৬,৩৯৮ কিলোমিটারের বেড়ার দৈর্ঘ্য করা হয়েছে। রেলের মূল উদ্দেশ্য রেললাইনে অনধিকার প্রবেশ রোধ করা, দুর্ঘটনা হ্রাস করা এবং দ্রুতগতির ট্রেন চলাচলকে আরও নিরাপদ করা। রেল জানিয়েছে, লোনাভালা–পুনে–দৌন্দ রুটে কাজ চলছে, যার মধ্যে ১৫০ কিলোমিটার বেড়া দেওয়ার কাজ ইতিমধ্যে নাকি সম্পন্ন হয়েছে। সর্বাধিক যে যে জোনে রেল এই কাজ করেছে সেগুলি হল উত্তর মধ্য রেলওয়ে – ২,৭২১ কিমি, দক্ষিণ মধ্য রেলওয়ে – ২,৩২৬ কিমি, পশ্চিম রেল – ২,২৫৭ কিমি।
রেল এরকম সিদ্ধান্ত কেন নিল?
প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ রেল এরকম সিদ্ধান্ত কেন নিল? রেলের দাবি, ভারতের অনেক জায়গায় মানুষ শর্টকাট হিসেবে রেললাইন ব্যবহার করে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হলেও কিছু মানুষ সতর্কবাণী উপেক্ষা করে ঝুঁকি নিয়ে রেল লাইন অবাধে পারাপার করেন। অনেক সময়ে কপাল খুব খারাপ থাকলে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু অবধি হয়েছে। অন্যদিকে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলাচলকারী ট্রেনের জন্য বেড়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশেষ করে বন্যপ্রাণী সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই বেড়া বসানো খুবই জরুরি হয়ে পড়েছিল। কিছু এলাকায় বেড়া দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো হাতি ও অন্যান্য প্রাণীদের পথগুলোতে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখা।
এদিকে রেলের এই উদ্যোগ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এই উদ্যোগটি প্রশংসনীয় হলেও, যাত্রীদের পক্ষ থেকে অভিযোগও সামনে আসছে। যেমন হাওড়া-ভুবনেশ্বর রুটে অনেক যাত্রীবাহী ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা ০% বলে জানা গেছে, শুধুমাত্র বন্দে ভারত এবং শতাব্দী ট্রেনই সময়মতো চলছে। যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেন নম্বর ১২০৭৩ এবং ১২৮২২ প্রায়ই ঘন ঘন দেরি করছে। যাইহোক, এসবের মধ্যেও রেলের তরফে বিশেষ লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় রেলের উদ্দেশ্য হলো আগামী বছরগুলিতে সমস্ত প্রধান করিডোরে বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করা। ২০২৭ অর্থবর্ষের মধ্যে ৭,৯০০ কিলোমিটার ট্র্যাক নবায়নের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ট্রেন চলাচলকে আরও দ্রুততর ও নিরাপদ করে তুলবে।












