বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে যেভাবে অস্থিরতা (Iran War) বেড়েছে তাতে জ্বালানি নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব। বিশ্বের বেশিরভাগ অপরিশোধিত তেল চলাচল করে যে রাস্তা দিয়ে সেই হরমুজ প্রণালী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে ইরান। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশ আগেই হুমকি দিয়ে বলেছে, যদি কেউ এখান থেকে তেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তবে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। আর তারপর থেকেই সরবরাহ শৃংখল বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় 30 শতাংশ বেড়ে গিয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। দাম বেড়েছে রান্নার গ্যাস (LPG Price Hike) এবং প্রাকৃতিক গ্যাসেরও। এমতবস্থায় আশঙ্কা বাড়ছে, গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে।
আরও বাড়বে রান্নার গ্যাসের দাম?
এতদিন দিব্য বিভিন্ন আরব দেশগুলির কাছ থেকে এলএনজি এবং প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করছিল ভারত। তবে ইরান যুদ্ধ শুরু হলে সেই আমদানি ব্যাহত হয়। এর ফলে প্রভাব পড়েছে জ্বালানির দামে। কিছুদিন আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করা হলেও গোটা দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের দাম 60 টাকা বেড়েছে। দাম বেড়েছে বাণিজ্যিক গ্যাসেরও। এখানেই শেষ নয়, পরিবহন জ্বালানি অর্থাৎ অটোর গ্যাসের দামও বেড়েছে বেশ খানিকটা।
অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে গ্যাস কিনতে গিয়ে একেবারে নাজেহাল অবস্থা মধ্যবিত্তের। বিশেষজ্ঞদের দাবি, তরল সোনার জন্য পশ্চিম এশিয়ার উপরেই পুরোপুরি নির্ভরশীল ভারত। ফলে সেখান থেকে তেল আমদানি ঠিকমতো না হলে আগামী দিনে দেশে জ্বালানির দাম অনেকটাই বাড়তে পারে। যদিও ভারতের কাছে সুযোগ রয়েছে বন্ধু রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনে নেওয়ার। এছাড়াও নয়া দিল্লির কাছে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার বেশ কিছু প্ল্যান রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত যদি সেটা নাও হয়, অধিক দামে তরল সোনা কিনে নিতে পারবে নয়া দিল্লি। কিন্তু রান্নার গ্যাস বা LPG র ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব নয়। বিশ্লেষক মহলের অনেকেরই আশঙ্কা, ইরান যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে নরেন্দ্র মোদির সরকার অধিক দামে তেল কিনলেও LPG র সংকট দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে রান্নার গ্যাসের দাম যে আরও অনেকটাই বাড়বে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
অবশ্যই পড়ুন: দায়ের হয়েছে FIR, জাতীয় পতাকার অপমান করে গ্রেফতার হবেন হার্দিক পান্ডিয়া?
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার মধ্যেও নরেন্দ্র মোদি সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপে মন গলেছে ইরানের। ইতিমধ্যেই ইরানের তরফে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আর এই অনুমোদনের পরই পুষ্পক এবং পরিমল নামক দুটি পণ্যবাহী জাহাজ একেবারে নিরাপদে হরমুজ পেরিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। আর এই খবর জ্বালানি সংকটের পরিস্থিতিতে যে বড় স্বস্তি তা বলাই যায়।












