বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বড় কামান বা শক্তিশালী যুদ্ধবিমান নয়, বরং উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ছোট্ট ড্রোনই (MQ 9B AEW Drone) বদলে দিতে পারে আধুনিক যুদ্ধের রঙ। বিগত দিনগুলিতে তার উজ্জল প্রমাণ পেয়েছে বিশ্বের বহু দেশ। এই মুহূর্তে পরিস্থিতি যা তাতে ভবিষ্যতে আধুনিক যুদ্ধের জন্য ড্রোনের উপরেই নির্ভর করতে হচ্ছে ভারত সহ বর্তমান বিশ্বের একাধিক শক্তিশালী দেশকে। মূলত সে কারণেই, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ড্রোন আমদানির উপর বিশেষ নজর দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এরই মাঝে আমেরিকার প্রধান প্রতিরক্ষা সংস্থা জেনারেল অ্যাটমিকস ইতিমধ্যেই MQ 9B ড্রোনের উন্নত সংস্করণ তৈরি করে ফেলেছে। সামরিক ক্ষেত্রে বহু বিশেষজ্ঞের দাবি, এই ড্রোন যেন যুদ্ধের ‘বাজপাখি’। যা একাই ভারতের বিমান নজরদারি এবং বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতার চিত্র বদলে দিতে পারে। বদলে দিতে পারে যুদ্ধের ছবিও।
ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষাকে জোরদার করবে এই ড্রোন!
আমেরিকার ওই প্রতিরক্ষা সংস্থা সূত্রে খবর, এই উন্নত প্রজন্মের ড্রোন এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং ক্ষমতা দ্বারা সজ্জিত। দূরপাল্লার এই ড্রোন শত্রুর গতিবিধি অনুধাবন করে দ্রুত ধ্বংস করতে সক্ষম। এ প্রসঙ্গে জেনারেল অ্যাটমিকসের CEO বিবেক লাল দ্য ইকোনমিক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, MQ 9B AEW বিশ্বের প্রথম বিপুল উচ্চতা, দীর্ঘ সহিষ্ণুতা সম্পন্ন ড্রোন হবে। এই ড্রোন কোনও রকম পাইলট ছাড়াই চালনা করা যাবে।
আমেরিকার ওই প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়ে, এই ড্রোনটি কম করে 50,000 ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। শুধু তাই নয়, একটানা 30 ঘন্টা বা তারও বেশি সময় বাতাসে ভেসে থাকার ক্ষমতা রয়েছে এই ড্রোনের। আমেরিকান সংস্থার হাতে তৈরি এই ড্রোনের গতি 480 কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা। সর্বোচ্চ এই গতিতে উড়ে গিয়ে শত্রুর উপর হামলা চালাতে পারে এই ড্রোনটি। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই ড্রোনটি দিল্লির মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে পৌঁছে গিয়ে শত্রুর বিমান কিংবা অন্য ড্রোন অনুধাবন করে তা ধ্বংস করতে পারবে। সবচেয়ে বড় কথা, এই ড্রোনটি AEW সিস্টেমের হওয়ায় আকাশে উড়তে উড়তেই এটি সেনাবাহিনীকে সরাসরি রিয়েল টাইম ডেটা পাঠাতে পারবে।
এ প্রসঙ্গে আমেরিকার ওই সংস্থার CEO বিবেক লাল মনে করেন, এই অত্যাধুনিক ড্রোন আধুনিক যুদ্ধের ছবি পরিবর্তন করে দিতে পারে। এই ড্রোনটির মাধ্যমে যেমন শত্রুর উপর নজরদারি চালানো যাবে তেমনই শত্রুর গতিবিধি সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শত্রুর যুদ্ধবিমান বা ড্রোনে হামলা চালানো সম্ভব হবে। তাই এই ড্রোনের হাত থেকে রেহাই পাওয়া মুশকিল নয় বরং অসম্ভব বলেই মনে করছে ওই প্রতিরক্ষা সংস্থার CEO। সংস্থাটি দাবি করছে, তাদের এই বিশেষ ড্রোন ডিফেন্স মিসাইল, ইলেকট্রনিক ওয়ার্ক ফেয়ার এমনকি রাডার জ্যামিংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
অবশ্যই পড়ুন: চলে বন্দে ভারত, রাজধানীর মতো এক্সপ্রেস.. কামাখ্যা-ডাংতল সেকশনে বিশেষ নজর রেলের
আমেরিকার কাছ থেকে বিশেষ ড্রোন কিনবে ভারত?
রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকার প্রধান প্রতিরক্ষা সংস্থার কাছ থেকে ইতিমধ্যেই 31 টি MQ9B উচ্চ ক্ষমতার ড্রোন কেনার জন্য 33 বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত। মূলত স্থলসেনা, নৌসেনা এবং বিমান বাহিনীর জন্যই এই ড্রোনগুলির অর্ডার দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ড্রোন ভারতের বায়ুসেনা, নৌ সেনা এবং স্থল সেনার শক্তি অনেকটাই বাড়াবে। তবে আমেরিকার এই সংস্থার AWE সংস্করণের নতুন ড্রোন ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘ মাত্রা জুড়বে বলেই মনে করছে সংস্থাটি। জানা গিয়েছে, এই ড্রোন মাত্র 1 ঘন্টা সময় নিয়ে লাহোরে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। সেসব দিক সামনে রেখেই নতুন সংস্করণের ড্রোনটি কিনুক ভারত, এমনটা চাইছে আমেরিকার সংস্থাটি।












