সহেলি মিত্র, কলকাতা: এবার সাইবার জালিয়াতির শিকার হলেন খোদ ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Surya Kant Cyber Fraud)। শুনে চমকে গেলেন তো? কিন্তু এটাই সত্যি। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিচারপতি সূর্য কান্তের নামে একটি ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করে যদি সাইবার জালিয়াতি করা যায়, তাহলে সাধারণ নাগরিকরা কতটা ভয়াবহ বিপদের মুখোমুখি হচ্ছেন তা সহজেই এখন নিশ্চয়ই কল্পনা করা যায়। শুক্রবার জয়পুরে সাইবার নিরাপত্তার উপর তিন দিনের সম্মেলনের উদ্বোধন করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। সেখানেই উঠে আসে চমকে দেওয়ার মতো খবর।
সাইবার জালিয়াতির শিকার খোদ প্রধান বিচারপতি!
প্রধান বিচারপতি বলেন যে প্রায় প্রতিদিনই তার নামে একটি নতুন ভুয়ো ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরী হয়, যা মানুষকে প্রতারণামূলক মেসেজ পাঠানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “একদিন আমার বোন এবং আমার মেয়ে আমার নামে তৈরি একটি ভুয়ো সাইট থেকে একটি মেসেজ, পেয়েছিল। পরে তদন্তে জানা যায় যে এই ধরণের সমস্ত প্ল্যাটফর্ম নাইজেরিয়া থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। এটাই সাইবার অপরাধের জটিলতা; এর কোনও সীমানা নেই।”
৬৬ লক্ষেরও বেশি সাইবার জালিয়াতির অভিযোগ!
এহেন ঘটনাকে একটি ব্যাপক সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন যে, সারা দেশে ৬৬ লক্ষেরও বেশি সাইবার জালিয়াতির অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে। ফলস্বরূপ, এটি কেবল পুলিশ বা আদালতের নয়, বরং সরকার, প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকদের একটি যৌথ দায়িত্ব হয়ে ওঠে। ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ থেকে শুরু করে ডিপফেক নিয়েও বার্তা দেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তিনি বলেন, “যখন একজন সাধারণ নাগরিক তাদের সম্পূর্ণ পুঁজি হারায়, তখন ক্ষতি কেবল আর্থিক হয় না। এটি মানসিক, সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক আস্থাকেও ভেঙে দেয়। ডিপফেক ভিডিও এমনকি কারও মর্যাদা এবং জীবিকা কেড়ে নিতে পারে। এই কারণেই আমাদের সকলের উচিত তাৎক্ষণিক ঋণ, ট্রাফিক চালান লিঙ্ক, অথবা কেওয়াইসি আপডেটের মতো কোনও লিঙ্কে ক্লিক করার আগে দুবার ভাবা।’
আরও পড়ুনঃ ৯০০০ টাকা হবে EPFO-র নূন্যতম পেনশন? সরকার দিল হিসেব
কীভাবে সতর্ক হবেন?
মোবাইল ফোনে অজানা লিঙ্কগুলি সাইবার জালিয়াতির একটি সাধারণ পদ্ধতি হয়ে উঠেছে। চালান, কেওয়াইসি আপডেট, পার্সেল ডেলিভারি, অথবা তাৎক্ষণিক ঋণের বার্তার মতো বার্তাগুলি মানুষকে লিঙ্কটিতে ক্লিক করতে প্রলুব্ধ করে। লিঙ্কটি খোলার পরে, ফোন বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রতারকদের কাছে ট্রান্সফার করে। ব্যাংক বা সরকারী বিভাগগুলি কখনই ব্যক্তিগত তথ্য জিজ্ঞাসা করে লিঙ্ক পাঠায় না, তাই এই জাতীয় বার্তাগুলি থেকে সতর্ক থাকা উচিত।












