সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের (Middle East War) কারণে দিনের পর দিন দেশের অর্থনীতির উপর প্রভাব পড়ছে। শোনা যাচ্ছে, আগামী ৩১ মার্চের পর নাকি পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়বে! হ্যাঁ, ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকেছে। জানা যাচ্ছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যেখানে এই তেলের দাম ছিল ৭০.৯ ডলার, সেখানে শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬.৫৬ ডলার। অর্থাৎ, ভারতীয় শোধনাগারগুলির জন্য এই অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকেছে। সেই সূত্রে আঁচ করা হচ্ছে যে, পেট্রোল-ডিজেলের দামও এবার অনেকটাই বাড়বে (Petrol-Diesel Price Hike)।
ভারতে বাড়বে জ্বালানির দাম
বেশ কিছু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, বাজেট লক্ষ্যমাত্রা আর আর্থিক ভারসাম্যের উপর নজর রেখেই আগামী ৩১ মার্চ সরকার তেলের দামের মূল্যবৃদ্ধি করতে পারে। তবে হ্যাঁ, যেহেতু বাংলা সহ মোট পাঁচটি রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন, তাই এই রাজ্যগুলিতে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা খুবই কম। তবে তারপর দাম বাড়তে পারে।
বলে দিই, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭০.৯ ডলার। আর ১২ মার্চ সেই দাম দাঁড়ায় ১৮৭.২ ডলার। এমনকি গত শুক্রবার সেই দাম পৌঁছে গিয়েছে এক্কেবারে ১৩৬.৫ ডলারে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪০ শতাংশের বেশি আর ইউরালস ক্রুডের দাম প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আসলে ইরানের সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার কারণে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল আর গ্যাস সরবরাহ কমে গিয়েছে। আর এই সংকটের কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে। যেহেতু ভারতের মোট জ্বালানির প্রায় ৬০% এই পথ দিয়ে আসে, সেই কারণেই পড়ছে প্রভাব।
এদিকে এও বলে রাখি, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ায় রাশিয়া থেকে অল্প দামে তেল কিনে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি রাশিয়ার ইউরালস ক্রুডের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সেই কারণেই আরও চাপ বাড়ছে। এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি অপরিশোধিত তেলের দাম সারা বছর প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকে, তাহলে ভারতের আমদানি ব্যয় বেড়ে ৮০ বিলিয়ন ডলারের পৌঁছবে। এমনকি ২০২৬ সালে অপরিশোধিত তেলের গড় মূল্য ৮৫ ডলার থাকলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ০.৩ থেকে ০.৪ শতাংশ কমে যেতে পারে, আর মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে ০.৬০%।
আরও পড়ুন: পরিচারিকাতে ভরসা বিজেপির, আউশ গ্রামের পদ্মের প্রার্থী কলিতা মাজির নাম বিচারাধীন
এখন বিশেষজ্ঞদের একটাই বক্তব্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যতদিন না পর্যন্ত তৈলবাহী জাহাজগুলি সাধারণভাবে চলাচল করতে পারছে, ততদিন বাজারে এই অস্থিরতা বজায় থাকবে এবং ভারতীয় ভোক্তাদের উপরে প্রভাব পড়বে। এমনকি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে চ্যালেঞ্জ। ফেব্রুয়ারি মাসের আমদানি-রফতানির পরিসংখ্যানেও দেখা গিয়েছে আমূল পরিবর্তন। হ্যাঁ, আমদানি ২৪.১১% বেড়ে ৬৩.৭১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আর বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৭.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখন দেখার, পেট্রোল-ডিজেলের দামের উপর কোনও প্রভাব পড়ে কিনা, আর এই পরিস্থিতি নয়াদিল্লি কীভাবে সামাল দেয়।












