সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দিঘার জগন্নাথ মন্দির (Jagannath Temple Digha) নিয়ে এবার বিতর্ক তুঙ্গে। ভোটের আবহে বাংলায় এসে এই মন্দির নিয়েই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেন পুরীর মন্দিরের দৈতাপতি ভবানী দাস মহারাজ (Daityapati Bhavani Das Maharaj)। হ্যাঁ, মন্দিরের নির্মাণশৈলী এবং শাস্ত্রীয় বিধি লঙ্ঘন নিয়ে এবার সরাসরি তুললেন অধর্মের অভিযোগ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, যারা ভগবানের নামে রাজনীতি বা অধর্ম করছেন, তাঁদের উপযুক্ত শাস্তি পেতে হবে। ঠিক কোন পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর এই দাবি?
পাথরের মূর্তি নিয়েই শাস্ত্রীয় আপত্তি তাঁর
আসলে কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে দৈতাপতি ভবানী দাস মহারাজ দিঘার মন্দিরের গঠনতন্ত্র নিয়ে এই প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর দাবি, জগন্নাথ দেবের মন্দির তৈরি করা পুণ্যের কাজ। তবে শাস্ত্রীয় বিধি মেনেই তা করতে হবে। শাস্ত্রে স্পষ্ট বলা রয়েছে যে, মহাপ্রভুর মূর্তি হবে কাঠের। কিন্তু দিঘার মন্দিরে মূর্তি তৈরি করা হয়েছে পাথর দিয়ে। মহাপ্রভুকে এভাবে পাথরে বন্দী করে ভক্তদের থেকে প্রভুকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। তাঁর সংযোজন, পাথরের মূর্তিতে ভক্তের প্রার্থনা কি মহাপ্রভু আদৌ শুনবেন? যারা এই শাস্ত্র বিরোধী কাজ করছেন, তাঁরা আসলে ধর্মের নামেই অধর্ম করছেন। এরই সাথে জানিয়ে রাখি, গতবছর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন দিঘার মাটিতে এই জগন্নাথ ধামের উদ্বোধন করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।
এদিকে দিঘার মন্দিরকে তীর্থস্থান হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টাকে কটাক্ষ করে দই দৈতাপতি মহারাজ স্পষ্ট বলেন যে, বিশ্বে চারটে ধাম রয়েছে। পাঁচ নম্বর ধামের কোনও অস্তিত্বই নেই। দিঘার মন্দির বড়জোর একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হতে পারে। তবে তা কখনোই ধাম হবে না। তিনি ইঙ্গিত দেন, ভোটারদের আকর্ষণ করার জন্য হয়তো এরকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বাংলায়।
এমনকি নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে ওড়িশার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে এনেছেন ভবানী দাস মহারাজ। তাঁর দাবি, ওড়িশাতেও একসময় মহাপ্রভুকে নিয়ে এরকম অধর্ম করার চেষ্টা হয়েছিল। আর তার ফল আজ সবার সামনে। ভগবান সবকিছুরই উপরে। তাঁর নাম নিয়ে রাজনীতি করা কোনও ভাবেই উচিত নয়। যখনই জগন্নাথ প্রভুকে নিয়ে অধর্ম হবে, দৈতাপতি পরিবার থেকে আমি অবশ্যই প্রতিবাদ জানাবো।
আরও পড়ুন: হুগলীর শ্রীরামপুর থেকে দিঘা অবধি চলবে AC বাস, জানুন রুট
প্রসঙ্গত, গোটা বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও অশান্তি দূর করার কামনায় আগামী ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল কলকাতা সল্টলেকের এফডি ব্লক মাঠে বিশাল মহাযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে। মহারাজ জানান, ভক্তরা একসঙ্গে মহাপ্রভুর ৩২টি রুপ দর্শন করতে পারবেন এখানে। এমনকি প্রায় ১০ লক্ষ ভক্তের কাছে বিনামূল্যে মহাপ্রভু প্রসাদ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর দেশ এবং রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই তিনদিন ব্যাপী যজ্ঞ এবং ভজন কীর্তনের আয়োজন।












