সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তবে তার আগেই পশ্চিমবঙ্গে বসে দেশে নাশকতার ছক (Terrorism In India) কষেছিল দুষ্কৃতীরা। ইতিমধ্যেই বাংলা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর আইএসআই এবং বাংলাদেশ জঙ্গিগোষ্ঠীর মোট আটজনকে আটক করা হয়েছে বলে সুত্র মারফৎ খবর। বাকিদেরকে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, তারা দেশজুড়ে জঙ্গি হামলার ফন্দি এঁটেছিল। এমনকি তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে আর তদন্ত শুরু হয়েছে।
দেশজুড়ে নাশকতার ছক
রিপোর্ট অনুযায়ী খবর, তামিলনারুর তিরুপুর জেলার বিভিন্ন পোশাক কারখানা থেকে ধৃতদেরকে আটক করা হয়েছে। ওই ৬ জনের নাম যথাক্রমে মিজানুর রহমান, মহম্মদ লিটন, উমর, মহম্মদ শাবাত, মহম্মদ শহিদ এবং মহম্মদ উজ্জ্বল। এমনকি এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ থেকেও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর ধৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই বাংলাদেশের নাগরিক। পরিচয় গোপন করার জন্য ইতিমধ্যেই তারা ভারতের আধার কার্ড বানিয়ে নিয়েছিল। তদন্তকারীরা দাবি করছে, তাদের বিদেশী সংযোগ রয়েছে আর বিদেশী চক্রের নির্দেশেই ভারতে কোনও বড় ধরনের জঙ্গি হামলার ছক কষেছিল।
ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি প্রক্রিয়ার জন্য রাজধানীতে আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা এই অভিযানকে নাশকতার কথা ছক ভেস্তে দেওয়ার বিরাট সাফল্য হিসেবেই মনে করছে। তবে কোথা থেকে এই সন্ত্রাসে মদত দেওয়া হত আর কারা এই সন্ত্রাসবাদীদের পেছনে রয়েছে, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে কীভাবে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হত তাও তদন্ত করে বের করা হচ্ছে। এছাড়া তাদের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের সংযোগ ছিল কিনা সে বিষয়ে তলব করা হচ্ছে বলে খবর।
আরও পড়ুন: ‘ওর সঙ্গে পুলিশের মার খেয়েছি’, প্রতীক উর রহমানকে নিয়ে মুখ খুললেন মীনাক্ষী মুখার্জি
রিপোর্ট অনুযায়ী, অনলাইনে সন্ত্রাসে উস্কানিমূলক পোস্ট থেকেই তদন্ত শুরু করেছিল সংস্থা। প্রথমে দলটি তিরুপুরে যায়। তখনই পোশাক কারখানায় ৬ অভিযুক্তের আধার কার্ড ধরা পড়ে, এবং পরে জানা যায় যে সেগুলি সবই ভুয়ো। এমনকি তাদের কাছ থেকে ৮টি মোবাইল ফোন এবং ১৬টি সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে। সবথেকে বড় ব্যাপার, গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে উস্কানিমূলক পোস্টার দেখা যাচ্ছিল। আর সেখানে কাশ্মীরের কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন রকম বিতর্কিত তথ্য দাবি করা হচ্ছিল আর অনলাইনে হামলার হুমকিও দেওয়া হয়। সেই সূত্রেই তদন্ত শুরু করে সংস্থা। আর সেখান থেকেই তামিলনাড়ুতে ওই অভিযুক্তদের সন্ধান মেলে।












