প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এইমুহুর্তে সাধারণ নাগরিকদের কাছে রাজ্যের সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি হল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প (Lakshmir Bhandar)। এই প্রকল্প মূলত মহিলাদের জন্য নিতে এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, নির্বাচনে ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য একাধিক রাজ্য একের পর এক প্রকল্প নিয়ে এসেছে জনসাধারণের জন্য। কিন্তু এই প্রকল্পগুলিতে রাজনৈতিক লাভ হলেও সরকারের কোষাগারে বিপুল চাপ পড়ে, আর এবার তাই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের ব্যয়ের সীমা সীমাবদ্ধ করার সুপারিশ দিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (State Bank Of India)। মহিলা ভোটার নিয়েও দিল বড় আপডেট।
জনসংযোগ বাড়াতে প্রকল্প নীতি
নির্বাচন আসলেই রাজনীতিবিদরা সাধারণ জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য একের পর এক জনদরদী প্রকল্প নিয়ে আসে। আর এই সব প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয় কয়েক কোটি টাকা। উপভোক্তাদের সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ অর্থ পাঠানো হয়, তাতে সরকারের কোষাগারে বেশ চাপ পড়ে। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সমালোচনা করে শীর্ষ আদালত বলেছিল যে জনগণকে বিনামূল্যে প্রকল্পের মাধ্যমে নগদ দেওয়ার পরিবর্তে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা উচিত যাতে তারা তাদের মর্যাদা এবং আত্মসম্মান অর্জন করতে পারে। কিন্তু তবুও বন্ধ হয়নি প্রকল্প। তাই এবার বিনামূল্যের এই সব সুবিধা এবং নগদ অর্থের মতো প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের ব্যয়ের সীমা GSDP-র একটি শতাংশে সীমাবদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে সরকারের প্রয়োজনীয় এবং কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি প্রভাবিত না হয়।
কী বলছে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া?
সম্প্রতি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ এসেছে। যেখানে বলা হয়েছে, “বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি পৃথক রাজ্যগুলির জন্য GSDP-র ০.১ থেকে ২.৭ শতাংশ, যা রাজ্যগুলির নিজস্ব মোট রাজস্ব সংগ্রহের প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ। তবে এইমুহুর্তে এই খাতে ব্যয়ের জন্য মোট রাজস্বের এক শতাংশের সীমা নির্ধারণ করতে হবে।” এছাড়াও SBI এর রিপোর্ট অনুযায়ী, যে সব রাজ্যে মহিলাকেন্দ্রিক প্রকল্প রয়েছে, সেখানে মহিলারা ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, বিহারের মতো রাজ্য এই তালিকায় রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে SBI জানিয়েছে, ২০২১ সালে বাংলার বিধানসভা ভোটে অতিরিক্ত ২৯ লক্ষ ১০ হাজার মহিলা বুথমুখী হয়েছেন। যার নেপথ্য রয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প।
আরও পড়ুন: আহমেদাবাদে মেগা ফাইনাল ভারত-নিউজিল্যান্ডের, মাঠে থাকবেন নরেন্দ্র মোদী?
প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে বেশ প্রশংসা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যেখানে বলা হয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতে প্রকল্পের জন্য পশ্চিমবঙ্গে ভোগ্যপণ্যের বিক্রি বেড়েছে। কিছুদিন আগেই অন্তর্বতী বাজেট পেশ করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেখানেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকার অঙ্ক বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা ও পিছিয়ে পড়া মহিলাদের মাসে ১৭০০ টাকা করে দেওয়া হয়।












