সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভোটের মুখেই রাজ্য সরকারগুলির ফ্রি সুবিধা বা বিনামূল্যে পরিষেবা বিতরণের প্রবণতা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। বৃহস্পতিবার এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তুলেছে, এই ধরনের নীতি দেশের আর্থিক উন্নয়ন আর কর্মসংস্থানের সংস্কৃতিকে কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না তো?
সুপ্রিম কোর্টের বড়সড় প্রশ্ন
মামলার শুনানিতে বেঞ্চ সরাসরি রাজ্যগুলির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলেছে, ভারতে আমরা কী ধরনের সংস্কৃতি গড়ে তুলছি? আদালত জানিয়েছে, যারা প্রকৃতপক্ষে বিদ্যুতের বিল বা অন্যান্য পরিষেবা দেওয়ার সামর্থই রাখে না, তাদের সহায়তা করা অবশ্যই কল্যাণমূলক। তবে আর্থিক সক্ষমতা বিচার না করে নির্বিচারে বিনামূল্যে সুবিধা বিলি করা হলে তা নীতিগত দিক থেকে প্রশ্নের মুখেই পড়ে।
উল্লেখ্য, এই মামলার শুনানি করেছেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। আর তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি। বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছে, সামাজিক সুরক্ষার নামে সমস্ত শ্রেণীর মানুষকে একইভাবে সুবিধে দেওয়া হলে তা তুষ্টিকরণ নীতিতে পরিণত হতে পারে।
#BREAKING: Supreme Court comes down heavily on freebies by states
• CJI Surya Kant flags growing “largesse distribution” by states despite mounting revenue deficits.
Asks: who will ultimately pay for these schemes if not the taxpayer?• Court questions the fiscal wisdom of… pic.twitter.com/aqcIZxBtoS
— Bar and Bench (@barandbench) February 19, 2026
কোন মামলার প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য?
আসলে এই শুনানির সূত্রপাত হয়েছিল তামিলনাড়ু পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কর্পোরেশন লিমিটেডের একটি প্রস্তাবকে ঘিরে। সংস্থাটি আর্থিক অবস্থান বিচার না করে সমস্ত গ্রাহককে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। আর এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতেই আদালত জানিয়েছে, দরিদ্রদের সাহায্য করা অবশ্যই যুক্তিযুক্ত। তবে সকলকে সমানভাবে ফ্রি সুবিধা দেওয়া নীতিগতভাবে প্রশ্ন তুলছে। সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে, নির্বিচারে ফ্রি সুবিধা বিতরণ করা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বড়সড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বেঞ্চ জানিয়েছে, দেশের অধিকাংশ রাজ্যই রাজস্ব ঘাটতিতে ভুগছে। তবুও উন্নয়ন খাতে ব্যায় না বাড়িয়ে ফ্রি প্রকল্পে জোর দিচ্ছে তারা, যা আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিজেপির প্রার্থী হতে চান রিঙ্কু মজুমদার! স্ত্রীর আবেদন নিয়ে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ
এমনকি শীর্ষ আদালত রাজ্যগুলিকে পরামর্শ দিয়েছে, বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার বদলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে জোর দেওয়া উচিত। প্রধান বিচারপতি এদিন স্পষ্ট বলেছেন, সারাদিন ফ্রি খাবার, বিদ্যুৎ, গ্যাস দিলে কাজের সংস্কৃতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর সরাসরি নগদ বা ভর্তুকি দিলে শ্রম বাজারেও প্রভাব পড়বে। এমনকি জাতি গঠনের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি ফল খতিয়ে দেখাও জরুরী।












