সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: শেষবার হয়েছিল ২০১১ সালে। আবারো জনগণনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত সরকার (2027 Census of India)। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকেই জনগণনা, যার প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। তবে এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার জেনারেল ও জনগণনা কমিশনার মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এবারের সেনসাস সম্পূর্ণ ডিজিটাল ভাবেই হবে এবং এতে মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করা হবে। তবে রিপোর্ট সম্পূর্ণ গোপনীয় থাকবে। আদালতের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে না। অর্থাৎ, নাগরিকদের সম্পূর্ণ তথ্য সুরক্ষিত থাকবে।
দুই ধাপে হবে জনগণনা
বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এবারের আদমশুমারি দুটি ধাপের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে বাড়িঘর এবং সেগুলি সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। আর দ্বিতীয় ধাপে বাসিন্দাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক আর অন্যান্য তথ্যগুলিকে লিপিবদ্ধ করা হবে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, ১৫ দিনের মধ্যে অনলাইনে নিজেদের তথ্য প্রবেশ করাতে পারবে সাধারণ মানুষ। অর্থাৎ স্ব-গণনার মাধ্যমে এবারের সেনসাস অনুষ্ঠিত হবে। মৃত্যুঞ্জয় কুমার স্পষ্ট বলেছেন, অনলাইন পোর্টালে নাগরিকদের ক্নিজেদের তথ্য নিজেদেরকেই প্রবেশ করাতে হবে। কিন্তু বাড়িতে পরিদর্শনে আসা কর্মী এবং কর্মকর্তারা পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে কিছু তথ্য জানতে চাইবেন। যেগুলির উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক।
জনগণনায় করা হতে পারে এই প্রশ্ন
উল্লেখ্য, সরকার এবার জনগণের ক্ষেত্রে মোট ৩৩টি প্রশ্ন আলোচনায় আনছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে কিছু প্রশ্ন করা হবে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বাড়ির মেঝে বা ছাদে ব্যবহৃত উপকরণ, সেখানে বসবাসকারী বিবাহিত দম্পতির সংখ্যা, পরিবারে কতজন সদস্য, লিঙ্গ, ব্যবহৃত শস্যের ধরণ, মৌলিক বা আধুনিক চাহিদা সম্পর্কিত তথ্য আর পরিবারের মালিকানাধীন যানবাহনের ধরণ সম্পর্কিত তথ্য জিজ্ঞাসা করা হতে পারে। পাশাপাশি পানীয় জলের উৎস কী, বাড়িতে কীভাবে বিদ্যুৎ আসে, শৌচাগার রয়েছে কিনা, যদি থাকে তাহলে সেটি কী ধরনের, নোংরা জল কীভাবে নিষ্কাশন করা হয়, রান্নাঘর, গ্যাসের সংযোগ আছে কিনা, এই সমস্ত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হবে।
আরও পড়ুন: হার মানাবে ট্রেনকেও, চালু হল কলকাতা থেকে পাটনা অত্যাধুনিক বাস, জানুন রুট
এছাড়াও পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং সম্পদের ব্যবহার সম্পর্কিত কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হতে পারে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পরিবারটিতে টিভি, ইন্টারনেট, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, সাইকেল, গাড়ির মতো সুযোগ-সুবিধা রয়েছে কিনা। পাশাপাশি পরিবারের প্রধানের নাম, লিঙ্গ, তপশিলি জাতি বা উপজাতি কিনা, কিংবা অন্য সম্প্রদায়ের কোনও প্রার্থী কিনা সেই সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হতে পারে। এছাড়াও বসবাসকারী দম্পতিদের বৈবাহিক অবস্থা জানতে চাওয়া হবে। আর এই সমস্ত প্রশ্নগুলির উত্তর কোনও ভাবে ভুল দেওয়া যাবে না। নাহলে আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে।












