চরমে সংকট! ফের গৃহবন্দি? কী এই এনার্জি লকডাউন যাতে আতঙ্কিত ভারত সহ গোটা বিশ্ব

Published:

Energy Lockdown

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২০২০ সালের স্মৃতি পুনরায় ফিরতে চলেছে! আশঙ্কা করা হচ্ছে ফের আরও একবার গোটা দেশ জুড়ে লকডাউন পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে। ৬ বছর আগে করোনার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) একটি ঘোষণায় ‘গৃহবন্দি জীবন’ শুরু হয়েছিল দেশবাসীর। তখনই ‘লকডাউন’, ‘সোশ্যাল ডিসটেন্স’, ‘কোয়ারেনটাইন’, ‘আইসোলেশন’ শব্দগুলির সঙ্গে পরিচিত হয় মানবসমাজ। এবার আরও একটি নতুন শব্দ যুক্ত হতে চলেছে, সেটি হল ‘এনার্জি লকডাউন’ (Energy Lockdown)। প্রশ্ন উঠছে তবে কি কোভিডকালের মত বিপদের ঝড় আসতে চলেছে?

এনার্জি লকডাউন কী?

অভিধানের পাতায় ‘এনার্জি লকডাউন’-এর কোনও নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এটি এক কথায় জ্বালানি সংকট। এটি এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে সরকার এবং সমাজ সীমিত জ্বালানি সম্পদ সংরক্ষণের জন্য ভোগ এবং চলাচলের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। তবে সম্প্রতি যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছে। হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। কিন্তু সেখানেও সমস্যা হচ্ছে, যার ফলে মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হয়তো এমন একটা সময় আসবে যখন জ্বালানি না পেয়ে স্তব্ধ হয়ে যাবে দৈনন্দিন জীবনের চাকা। তেমনটা হলে হয়তো লকডাউনই ঘনিয়ে আসবে।

কোন কোন দেশ বিধিনিষেধ আরোপ করছে?

সূত্রের খবর, জ্বালানি সংকটের জেরে ইতিমধ্যেই অনেক দেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া এবং মায়ানমারের মতো দেশে পেট্রোল কেনার উপর সীমা আরোপ করা হয়েছে। লাওস ও ভিয়েতনামে বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হচ্ছে। বাংলাদেশের স্কুলগুলোকে অনলাইনে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য লোডশেডিং করা হচ্ছে। পাকিস্তান ও ফিলিপিন্সে সরকারি অফিসগুলোর জন্য চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা হয়েছে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা দেশগুলিকে জ্বালানি সংরক্ষণের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছে।

ভারতের পরিস্থিতি কী?

IEA জানিয়েছে বিশ্বে নাকি প্রতিদিন ১১ মিলিয়ন ব্যারেলের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, যা খুবই সংকটপূর্ণ। এটি নাকি ১৯৭০ সালে ঘটা দুটি তেলসংকটের চেয়েও ভয়ংকর এই সংকট। তাই মাত্র ৪ সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ। সেক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে ভারতের পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে রয়েছে। কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া বিশ্বময় এই অস্থিরতা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে, তাই দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সরকার আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাইছে। এমনকি জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষিত করতে, আমদানির উৎস বাড়াতে, মূল্য স্থিতিশীল করতে এবং LPG, পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখতে কাজ করছে।

জরুরি বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

সূত্রের খবর, আজ শুক্রবার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। সন্ধে ৬টা ৩০ মিনিটে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কথা বলবেন মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে। মূলত পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে রাজ্যগুলির প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার পর্যালোচনা করা হবে। তবে, যেসব রাজ্যে নির্বাচন হতে চলেছে, সেই রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নেবেন না বলেই জানা গিয়েছে। যদিও সেই রাজ্যগুলির মুখ্য সচিবদের জন্য পরে একটি পৃথক বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: পেট্রোল, ডিজেলের উপর ১০ টাকা করে শুল্ক কমাল সরকার, কমতে পারে দাম

প্রসঙ্গত, যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সংকটের মাঝে আরও এক সমস্যা সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, কোভিডের আরও এক নতুন ভেরিয়েন্ট প্রকাশ্যে এসেছে। নতুন এই কোভিড ভ্যারিয়েন্টটির নাম- BA.3.2। এখনও পর্যন্ত বিশ্বের ২৩টি দেশে এই ভেরিয়েন্টটি শনাক্ত হয়েছে। এই ভেরিয়েন্টটির উৎস নাকি আমেরিকার বিমানের বর্জ্যজল এবং তাদের ২৫টি অঙ্গরাজ্যের ১৩২টি পয়ঃপ্রণালীর জলে ধরা পড়েছে। তাই সেই নিয়েও চিন্তার মুখে পড়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

google button