বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান যুদ্ধের কারণে লোহিত সাগরের নিচে থাকা বিভিন্ন সাইবার অপটিক কেবল ফেটে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন গুনছে বিশ্ববাসী। পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে যদি লোহিত সাগরের নিচে থাকা কেবলগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে গোটা বিশ্বে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। যার বিরূপ প্রভাব পড়বে ভারতেও (India Internet Service)। এখন প্রশ্ন, আদতেই যদি সাগরের তলদেশ থেকে যাওয়া বিভিন্ন ইন্টারনেট কেবল গুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেক্ষেত্রে ঠিক কতটা প্রভাবিত হবে ভারত? তাহলে কি পুরোপুরি ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে এ দেশে?
ভারতে ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে?
বিশেষজ্ঞদের দাবি, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত তীব্র হলে যদি লোহিত সাগরের নিচ থেকে যাওয়া বিভিন্ন ফাইবার অপটিক কেবল গুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা ফেটে যায় সে ক্ষেত্রে বিশ্বের ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হবে ঠিকই তবে ভারত তথা অন্যান্য দেশগুলিতে পুরোপুরি ইন্টারনেট সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত বা পরিষেবা বন্ধ হবে না। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের ইন্টারনেট ট্রাফিকের অন্তত 60 শতাংশ মুম্বই হয়ে ইউরোপে যায়। এই পথ মূলত লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে।
এছাড়া বাকি 40 শতাংশ ট্রাফিক চেন্নাই হয়ে সিঙ্গাপুর এবং প্রশান্ত মহাসাগর দিয়ে পরিচালিত হয়। এই মুহূর্তে 17টি আন্তর্জাতিক কেবলের মাধ্যমে ভারতে ইন্টারনেট সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইরান যুদ্ধের ফলে ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে নেই বললেই চলে। কারণ ইন্টারনেটের কাঠামো একটি নেটওয়ার্কের মতো। যদি একটি পথ বন্ধ হয়ে যায় তবে অন্য একটি পথ দিয়ে ইন্টারনেট সরবরাহ করা সম্ভব। তবে এ কথাও ঠিক, যুদ্ধের কারণে সমুদ্রের তলদেশে থাকা কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা মেরামত করতে মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে।
অবশ্যই পড়ুন: কাশ্মীর সীমান্তে ভারতের বিমান লক্ষ্য করে গুলি চালালো পাকিস্তান, যুদ্ধ বাঁধবে এবার?
ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ে ভয় না পাওয়ার পরামর্শের পাশাপাশি উদ্ধারের পথ বাঁধতে দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ভারতে 14টি ল্যান্ডিং স্টেশনে 17টি কেবলের মধ্যে দিয়ে ইন্টারনেট পরিচালিত হয়। কাজেই ইরান যুদ্ধের কারণে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আগে ভারতকে বিকল্প সমুদ্র পথ খুঁজে বের করতে হবে। যা পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে দিয়ে যায় না। অর্থাৎ পশ্চিম এশিয়ার অংশকে এড়িয়ে সমুদ্রের তলদেশে ইন্টারনেট কেবল সংক্রান্ত কাজ করার জন্য প্রযুক্তিগত ক্ষমতা বাড়াতে হবে ভারতকে।












