সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: একদিকে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত, অন্যদিকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান (Afghanistan–Pakistan Conflict)। দিনের পর দিন বাড়ছে উত্তেজনা। গত চারদিন পাক-আফগান উভয় দেশের সেনাবাহিনী একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে সোমবার আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, আফগান বিমান বাহিনী বেশ কয়েকটি পাকিস্তান সামরিক ঘাঁটিতে নির্ভুলভাবেই হামলা চালিয়ে ৩৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে খতম করেছে। এমনকি অপারেশন সিঁদুরে ধ্বংসপ্রাপ্ত নূর খান ঘাঁটিতেও চালানো হয়েছে হামলা।
পাকিস্তান জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা আফগানিস্তানের
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, রাওয়ালপিণ্ডির নূর খান বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এমনকি বেলুচিস্তানের কোয়েটায় ১২ তম ডিভিশনের সদর দফতর এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার মোহাম্মদ এজেন্সি খোয়াজাই ক্যাম্পেও বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি পাকিস্তানের আরও বেশ কয়েকটি সামরিক ক্যাডার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, তাদের এই অভিযান পাকিস্তান বাহিনীর সাম্প্রতিক অনুপ্রবেশেরই প্রতিশোধ। কারণ, পাকিস্তান সম্প্রতি আফগানিস্তানের কাবুল আর বাগরাম বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। এমনকি আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট বলেছে, যদি পাকিস্তান আবারও আকাশসীমা লঙ্ঘন করে তাহলে বড়সড় হামলা চালানো হবে।
এদিকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করে পাকিস্তান। তাতে আরও উত্তেজনা বাড়ে। এমনকি শুক্রবার পাকিস্তান কাবুল এবং কান্দাহারেও বিমান হামলা চালিয়েছিল। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আফগান সেনাবাহিনী পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের করা অপারেশন সিঁদুরে নূর খান বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরা হয়েছিল। সেই আক্রমণে ওই ঘাঁটির অবকাঠামো পুরো ভেঙে পড়ে। আর সেখানেই এবার হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান।
আরও পড়ুন: ERO, AERO-র বদান্যতায় বিচারাধীন বিশ্বকাপজয়ী রিচা ঘোষের নাম, জানিয়ে দিল কমিশন
টোলো নিউজ দাবি করছে, তালেবানদের হামলায় ৩২ জন পাকিস্তানি সেনা খতম হয়েছে। এমনকি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তাদের ২০৩ মানসুরি, ২০১ সিলাব এবং ২০৫ আল-বদর কর্পস এই অভিযান চালিয়েছে। তাতে ১০ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছে। পাশাপাশি চারটি সামরিক পোস্ট পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আর আফগান সেনাবাহিনী দুটি পাকিস্তানি ড্রোনও নিচে নামিয়ে আনে। এখন দেখার দুই দেশের পরিস্থিতি ঠিক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।












