বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিদায় নিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস। বদলেছে বাংলাদেশের সরকার (Attack On Hindus)। এই মুহূর্তে ওপার বাংলার সিংহাসনে রয়েছেন প্রয়াত খালেদা জিয়া পুত্র তারেক রহমান। বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির সরকারের হাতে এখন বাংলাদেশের দায়িত্ব। কিন্তু তা সত্ত্বেও বদলাল না হিন্দু অত্যাচারের চিত্রটা! উত্তর রংপুর এবং মধ্য-দক্ষিণ বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, এই দুই জায়গায় কার্যত একই ধাঁচে হিন্দু পাড়ায় আচমকা হামলা চালাল অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা। যে ঘটনায় নতুন করে বাংলাদেশের হিন্দুদের নিয়ে বেড়েছে উদ্বেগ!
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই জায়গায় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের কুষ্টিয়া এবং উত্তর রংপুর এই দুই জায়গায় কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে হিন্দুদের। দুই জায়গাতেই হিন্দুদের বাড়ি, দোকান সহ অন্যান্য ব্যবসায়িক জায়গাগুলিতে হামলা, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, লুটপাটের ঘটনার পাশাপাশি অন্তত 97টি মাজার জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সুফিসন্ত থেকে শুরু করে বহু বাউল ফকির ও সহজরিয়াদের আখড়ায় হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন বলছে, শুক্রবার গভীর রাতে রংপুরের 24 নম্বর ওয়ার্ডের কাচনা দাসপাড়ায় মদ্যপানে আসক্ত এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিন্দুদের পাড়ায় ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ওই যুবকের মৃত্যুর পেছনে কোনও হিন্দু ভাই বোনের নাম জড়িয়ে নেই। তা সত্ত্বেও হিন্দুদের টার্গেট করে হামলা চালানো হলো। স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীরা বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের দোকানপাট এবং বাড়িতে লুটপাট চালিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পুলিশ প্রশাসনের দাবি, এই ঘটনার সাথে অন্তত 50 জন সশস্ত্র ব্যক্তি জড়িত। যাঁরা মদ্যপ যুবকের মৃত্যু কান্ডকে একেবারে ঢাল বানিয়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা চালিয়েছে। কয়েকজন পুলিশকর্তা জানিয়েছেন, যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকে কাজে লাগিয়েছে তৃতীয় পক্ষ। ওই ঘটনাটিকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর একেবারে অকারণে অত্যাচার চালানো হয়েছে। যে ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এবার সমালোচিত হতে হচ্ছে তারেক রহমানের সরকারকে। প্রশ্ন উঠছে, তারেক রহমানের জামানাতেও বদলাচ্ছে না ছবিটা?
অবশ্যই পড়ুন: বিদেশে রয়েছে রেস্তোরাঁ, ছেলেদের জন্য কত সম্পত্তি রেখে গেলেন আশা ভোঁসলে?
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় একটি পুরনো ভিডিওকে নতুন করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সুফি শমীক হত্যা করার ঘটনাটিও পূর্বপরিকল্পিত বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল অর্থাৎ শনিবার সকালে দৌলতপুরের ফিলিপনগরের কাছে সকলকে জড়ো হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। পরবর্তীতে সেই খবর পেয়ে শুক্রবার রাত থেকে পুলিশ টহল দিলেও কাজের কাজ করতে পারেননি। অভিযোগ, পীর খুনের ঘটনায় পুলিশ নাকি দুষ্কৃতীদের আটকাতেই পারেন। নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের সামনেই নাকি ওই ধর্মীয় পীরকে হত্যা করার পাশাপাশি অবাধে হিন্দুদের বাড়িঘরে লুটপাট চালিয়েছে তারা।। পরবর্তীতে পুলিশের তরফে জানানো হয়, কোনও সংখ্যালঘু তাদের কাছে মামলা দায়ের করেনি। তাই এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করা যায়নি।












