সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ভিখারী পাকিস্তানে এবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠল খাদ্য সংকটের আশঙ্কা। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশে ডালের উৎপাদন অনেকটাই কমে গিয়েছে (Pakistan Pulses Crisis)। যার ফলে গোটা চাহিদাই এখন আমদানির মাধ্যমেই পূরণ করতে হচ্ছে। আর এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার উপরে দিনের পর দিন চাপ বাড়ছে।
উৎপাদন কমায় বাড়ছে আমদানির খরচ
হিন্দুস্তানের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রতিবছর প্রায় ১৬ থেকে ১৬.২ লক্ষ টন ডালের চাহিদা রয়েছে। তবে স্থানীয় উৎপাদন তার একটা সামান্য অংশই পূরণ করতে পারছে না। প্রায় ১০ থেকে ১০.৭ লক্ষ টন ডাল এখন বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে সন্ত্রাসের দেশকে। এর ফলে মোট চাহিদার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ আমদানি নির্ভর হয়ে পড়ছে দেশটি। আর এই আমদানির পেছনে বছরে প্রায় ৯৮ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে বলেই দাবি শিল্পমহলের।
এদিকে কৃষি ব্যবসায়ীরা এও দাবি করছে যে, ১৯৯৮ সালের আগে পাকিস্তান ডালের উল্লেখযোগ্য রফতানিকারক দেশ ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে রফতানি নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার কারণে উৎসাহ অনেকটাই কমে যায় কৃষকদের। আর ডাল তুলনামূলকভাবে কম লাভজনক ফসল হয়ে ওঠায় বহু কৃষক এখন অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই সঠিক নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার অভাব উৎপাদন হ্রাসের মূল কারণ।
আরও পড়ুন: মাসে মাসে মিলবে মোটা টাকার পেনশন, বড় পদক্ষেপ নিল EPFO
এমনকি বিশেষজ্ঞরা এও বলছেন যে, বৃষ্টি নির্ভর অঞ্চল বিশেষ করে থল এলাকার মতো জায়গায় সময়মতো বৃষ্টি হলে উৎপাদন ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে অনিয়মিত বা কম বৃষ্টিপাতের ফলে মারাত্মকভাবে ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় অনেক কৃষক পরবর্তী মরসুমে আর ডাল চাষে আগ্রহ প্রকাশ করে না। এদিকে বিশ্ব ডাল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে কৃষি গবেষকরা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ডাল শুধুমাত্র মানব পুষ্টির জন্য নয়, বরং মাঠের উর্বরতা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ফসল। কিন্তু সীমিত লাভ আর রফতানি নীতির অনিশ্চয়তার কারণে কৃষকরা ডাল চাষ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ফলে দেশের ওপর এক কথায় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে এবং খাদ্য সংকটে ভুগছে দেশটি।












