বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ক্ষমতাসীন সরকারের দুর্নীতিকে সামনে রেখে ফের রাজতন্ত্রের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন নেপালের (Nepal) জনগণ! জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি রাজতন্ত্র সমর্থক রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি পুনরায় রাজতন্ত্রের দাবি জানিয়ে একটি সমাবেশের আয়োজন করে। এদিন সেই সমাবেশে নেপালের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আরপিপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। নেপালিদের এই আন্দোলনের জের কার্যত নড়ে চড়ে বসেছে কেপি শর্মা ওলির সরকার!
নেপালে পুনরায় রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়?
সম্প্রীতি রাজতন্ত্রের দাবিতে আরপিপির কর্মী সমর্থক থেকে শুরু করে নেপালের জনগনের সমাবেশের পরই মুখ খুলেছেন নেপালের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি। তাঁর বক্তব্য, নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি যা তাদের পুনরায় এদেশে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। একই সুর শোনা গিয়েছে নেপালি কংগ্রেস প্রধান শের বাহাদুর দেউবার গলাতেও।
যদিও এ প্রসঙ্গে নেপালের সিপিএ মাওবাদী কেন্দ্রের প্রধান পুষ্প কমল দহল প্রচন্ড বলেছেন, প্রাক্তন রাজা জ্ঞানেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ যদি মনে করেন তিনি খুব বিখ্যাত হয়ে পড়েছেন সেক্ষেত্রে আবার নতুন করে দল গঠন করুন। দেশের জনগণ চাইলে আপনাকে আবার ক্ষমতায় আনবে। বলে রাখা ভাল, নেপালের প্রাক্তন রাজা জ্ঞানেন্দ্র বীর বিক্রম সম্প্রতি এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, তিনি পুনরায় দেশের হয়ে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করতে চান।
বর্তমান সরকারের কাজে খুশি নন নেপালের জনগণ?
সম্প্রতি বেশকিছু রিপোর্ট মারফত খবর, আরপিবির সমর্থক থেকে শুরু করে জনগণের একটা বড় অংশ দাবি করেছেন, নেপাল সরকারের দুর্নীতি ব্যাপক হারে বেড়েছে। যার জেরে গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। মনে করা হচ্ছে সেই কারণেই গণতন্ত্র ভুলে ফের রাজতন্ত্র বাস্তবায়নের পথে হেঁটেছেন নেপালের বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, 2008 সালে শেষবারের মতো রাজতন্ত্র ছিল নেপালে। তবে রাজতন্ত্র বিলোপের পর গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেপালের সরকার গঠন হলে কাঠমান্ডুর রাজপ্রাসাদ কার্যত জাদুঘরে পরিণত হয়। জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার জ্ঞানেন্দ্র শাহ প্রাক্তন রাজা বীরেন্দ্র শাহের মূর্তি উন্মোচন করেন। যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজতন্ত্র সমর্থক পার্টির নেতাকর্মী থেকে শুরু করে নেপালের বিপুল সংখ্যক জনগণ।
অবশ্যই পড়ুন: পাকিস্তানে খতম ভারতের আরেক শত্রু, নামাজ পড়ে বেরোতেই গুলিতে ঝাঁঝরা মুফতি শাহ মীর
বেশ কয়েকটি সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে নেপালে পুনরায় রাজতন্ত্রের দাবি জানানো ব্যক্তিদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ। বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, মূলত দুর্বল অর্থনীতি, দেশজুড়ে অরাজগতা, বর্তমান সরকারের পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতিসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কাজগুলিকে সামনে রেখে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কেপি শর্মা ওলির সরকারকে ক্ষমতায় আনা নেপালি জনগনই এখন রাজতন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
গুরুত্বপূর্ণ খবরের জন্য | Join Group |
চাকরির খবরের জন্য | Join Hood Jobs |
রাশিফলের জন্য | Join Hood Rashifal |
খেলার খবরের জন্য | Join Whatsapp |