সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: খ্রিস্টান ধর্মের গুরুদেব যীশুখ্রীষ্টের দেহাবশেষ যে পবিত্র কাপড় (Jesus Christ’s Burial Cloth) দিয়ে জড়ানো ছিল বলে এতদিন বিশ্বাস করা হতো, সেই ‘শ্রাউড অফ তুরিন’ নিয়ে এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলেন বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘ গবেষণার পর জানা যাচ্ছে, ওই প্রাচীন লিলেন কাপড়ের তন্তুতে ভারতীয় উপমহাদেশের ডিএনএ-র (DNA) সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। আর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পত্রিকা সাইন্টিফিক রিপোর্টসে প্রকাশিত এই গবেষণাটি বেশ কয়েক শতাব্দীর পুরনো ঐতিহাসিক রহস্যকেই নতুন করে আবার উস্কে দিচ্ছে। তাহলে কি ভারতেই তৈরি এই বিশেষ কাপড়?
‘শ্রাউড অফ তুরিন’ আসলে কী?
জানিয়ে রাখি, ‘শ্রাউড অফ তুরিন’ হল প্রাচীন লিলেন বস্ত্র যাতে এক ক্রুশবিদ্ধ ব্যক্তির ঝাপসা প্রতিচ্ছবি দেখা গিয়েছে। বহু খ্রিস্টান ধর্মালম্বি বিশ্বাস করেন যে, ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পর যিশুখ্রিস্টের দেহ এই কাপড় দিয়েই ঢাকা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপে প্রথম এই বস্ত্রখন্ডের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তখন থেকেই এটি বিশ্বের সবথেকে চর্চিত এবং বিতর্কিত ধর্মীয় স্মারক হিসেবে পরিচিত।
গবেষণায় কী তথ্য পাওয়া গেল?
আধুনিক নেক্সট জেনারেশন সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এই কাপড়ের ধূলিকণা এবং তথ্য পরীক্ষা করেছিলেন। আর সেখান থেকে সংগৃহীত ডিএনএ বিশ্লেষণে এমন সব তথ্য উঠে এসেছে যা সত্যিই চমক দেওয়ার মতো। প্রথমত, কাপড়ের তন্তুতে এমন কিছু মানুষের ডিএনএ পাওয়া গিয়েছে, যার জিনগত বৈশিষ্ট্য সরাসরি দক্ষিণ এশিয়া বা ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গেই মিলে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, লিনেনের খাঁজে খাঁজে এমন কিছু উদ্ভিদের ডিএনএ এর হদিশ মিলেছে, যেগুলি মূলত ভারতে উৎপাদিত হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বরবটি।
তাহলে কি এই কাপড় ভারতেই তৈরি?
বিজ্ঞানীদের মতে, উত্তরটা হ্যাঁ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। কারণ, প্রাচীনকালে ভারত ছিল উন্নতমানের বস্ত্র উৎপাদনের মূল কেন্দ্র। আর কাপড়ে ভারতীয় উদ্ভিদের ডিএনএ মেলার কারণে মনে করা হচ্ছে যে, এটি তৈরিতে ব্যবহৃত ফ্লাক্স হয়তো ভারত থেকেই নেওয়া হয়েছিল। আর হতে পারে কাপড়টি ভারতে বোনা হয়েছিল এবং প্রাচীন বাণিজ্য পথ ধরেই তা মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপে গিয়ে পৌঁছয়।
আরও পড়ুন: ফের বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তান! আত্মঘাতী হামলায় মহিলা, শিশু সহ মৃত বহু
এদিকে ১৯৮৮ সালের কার্বন রেটিং পরীক্ষায় দাবী করা হয় যে, এই কাপড়টি নাকি ১২৬০ থেকে ১৩৯০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মধ্যযুগীয় ইউরোপে তৈরি। কিন্তু বর্তমান ডিএনএ বিশ্লেষণ সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছে। ভারত ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব আফ্রিকা এবং ইউরোপের ডিএনএ মিশ্রণ থেকে স্পষ্ট প্রমাণ মিলছে যে, এই বস্ত্রখন্ডের ইতিহাস অনেক বেশি পুরনো এবং অগভীর। এটি কয়েক শতাব্দী ধরেই বিভিন্ন মহাদেশের মানুষের হাত বদল হয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। যদি এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেনি।












