বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান-ইজরায়েল সংঘাত যেন থামছেই না (Israel Attacks Iran Oil Reserve)। গতকাল রাতে তেল আবিবের বুকে একাধিকবার মিসাইল ছুঁড়েছিল ইরান (Iran)। এবার তার পাল্টা প্রত্যাঘাত হিসেবে তেহরানের তেল মজুদ লক্ষ্য করে বড়সড় হামলা চালালো বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশ। একাধিক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার ইরানের হামলার পরই তেহরানের অয়েল রিজার্ভকে টার্গেট করে ইজরায়েল। আর তারপরই চলে ভয়াবহ হামলা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েল একেবারে যৌথভাবে ইরানকে শায়েস্তা করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তাঁদের দাবি, ইরান যাতে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে নেয় সেজন্যেই নতুন নতুন ছক কষছে এই দুই দেশ।
বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিতে পারে ইরানে
সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইজরায়েলের নতুন হামলার পর ইরানে লজিস্টিক, ট্রাফিক এবং বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিতে পারে। ইরানের কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে দাবি করছে, তেহরানের একাধিক জায়গায় রিফাইনারি কমপ্লেক্সে বড় হামলা হয়েছে। এদিকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একেবারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান আত্মসমর্পণ না করলে আগামী দিনে আরও কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “তেহরানের তেল স্টোরেজে আগুন জ্বলছে।”
BBC বলছে, ইতিমধ্যেই ইরানের তেল মজুদ লক্ষ্য করে হামলার খবর নিশ্চিত করেছে ইজরায়েলের সেনাবাহিনী। এদিকে বিশ্লেষক মহল দাবি করছেন, খুব সম্ভবত এই প্রথমবার ইজরায়েল ইরানের কোনও বেসামরিক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা চালালো। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম উত্তরাঞ্চলের রাজধানী এবং প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলার জন্য আমেরিকা এবং ইহুদি শাসন ব্যবস্থাকে দায়ী করেছে।
অবশ্যই পড়ুন: ভারত বনাম নিউজিল্যান্ডের ফাইনাল লন্ডভন্ড করবে বৃষ্টি? দেখুন ওয়েদার রিপোর্ট
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা চালানোর জন্য তাদের কাছে একপ্রকার ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলি যদি আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে ইরানে হামলা চালানোর মদত না দেয়, তবে ইরানও তাদের উপর হামলা করবে না। ইরানের সাথে প্রতিবেশী দেশগুলির কোনও রকম শত্রুতা নেই।” একই সাথে এদিন ট্রাম্পের দাবিকে নস্যাৎ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ চেয়েছেন। তাঁকে এই স্বপ্ন নিয়েই সমাধিস্থ হতে হবে।












