সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: লজ্জায় নাক কাটা গেল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর (Pakistan Army)! বালুচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) কাছে আত্মসমর্পণ করল আসিম মুনিরের সেনাবাহিনী, যা মুনির ও শেহবাজ শরীফের জন্য কতটা লজ্জাজনক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। হ্যাঁ, সাতজন পাকিস্তানি সৈন্য বিএলএ-র কাছে আত্মসমর্পণ করার পর বালুচিস্তান পাকিস্তান সরকারকে ৭ দিনের আল্টিমেটামও দিয়েছে। এমনকি আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি সৈন্যদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে মুনির ও শেহবাজকে হুমকির কথাও জানানো হয়েছে।
পাকিস্তান সরকারকে ৭ দিনের আল্টিমেটাম
মুনিরের সেনাবাহিনীকে বাগে আনার পর বিএলএ যোদ্ধরা পাকিস্তানকে এবার ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে। এমনকি তারা ওই সাতজন পাকিস্তানি সামরিক কর্মীকে বন্দি করে বিনিময়েরও দাবিও তুলেছে। বিএলএ-র এক মুখপাত্র বলেছেন, তাদের যোদ্ধারা সম্প্রতি এক অভিযানে ৭ জন পাকিস্তানি সেনা সদস্যকে বন্দি করেছে। যদি ৭ দিনের মধ্যে বালুচ রাজনৈতিক বন্দি, নিখোঁজ ব্যক্তি আর অন্যান্য আটক ব্যক্তিদের মুক্তির জন্য পাকিস্তান সরকার কোনও পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সৈন্যদেরকে বিচারের পর সাজা দেওয়া হতে পারে বা হত্যাও করা হতে পারে।
এদিকে এই ঘটনাকে ওয়াকিবহাল মহল বালুচিস্তানে চলমান বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতের অংশ হিসেবে দাবি করছে। যেখানে বিএলএ-র যোদ্ধারা পাকিস্তানের কাছে স্বাধীনতার দাবি জানিয়েছে। বিএলএ অভিযোগ করছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী বালুচ জনগণকে দিনের পর দিন নির্যাতন করছে। এমনকি রাজনৈতিক দমনপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে। বিএলএ-র দাবি, এই সৈন্যরা দখলদার বাহিনী সদস্য। তাদেরকে মুক্তির বিনিময়ে বালুচ বন্দিদের মুক্তি দেওয়া উচিত। যদিও পাকিস্তান সরকার এখনও এ বিষয়ে কোনও রকম আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
Breaking: The BLA has issued a seven-day ultimatum to the Pakistani state for a prisoner exchange, claiming to have captured seven of its military personnel. pic.twitter.com/8FqFozRPnD
— The Balochistan Post – English (@TBPEnglish) February 14, 2026
আরও পড়ুন: কতদিন মিলবে যুবসাথী, বেকার ভাতা? বিজ্ঞপ্তি নবান্নর
উল্লেখ্য, বিএলএ এর আগে বেশ কয়েকবার এই ধরনের আল্টিমেটাম দিয়েছিল পাকিস্তান সরকারকে। বিগত বছর জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন ছিনতাইয়ের সময় তারা শেহবাজ শরীফের প্রশাসনকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল। সেখানে তারা শত শত যাত্রীকে বন্দি করে এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি করে। যদিও সেই ঘটনায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী অপারেশন গ্রিন বোলান চালিয়ে ওই বন্দিদেরকে উদ্ধার করে। তবে বিএলএ-র দাবি, তারা বেশ কয়েকজন বন্দিকে হত্যা করেছিল। এখন দেখার, পাকিস্তান সরকার সেনা সদস্যদের মুক্তির জন্য ঠিক কী পদক্ষেপ নেয়।











