সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পাকিস্তান। এবার জ্বালানি সংকটের মুখে পড়ে কার্যত লকডাউনের পথে হেঁটেছে সন্ত্রাসের দেশ (Pakistan Lockdown)। প্রধানমন্ত্রীর শেহবাজ শরীফের (Shahbaz Sharif) সভাপতিত্বে হওয়া এক জরুরী বৈঠকে দেশের বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার জন্য এবার রাত আটটার মধ্যেই সমস্ত শপিংমল ও বাজার বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হ্যাঁ, ইসলামাবাদ থেকে শুরু করে খাইবার পাখতুনখোয়া, এমনকি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে এই কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।
রাত আটটার পর বন্ধ থাকবে সবকিছু
পাকিস্তান সংবাদমাধ্যম ডনের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের কোষাগার বাঁচানোর জন্য এবং বিদ্যুতের খরচ কমানোর জন্যই এই বড় সিদ্ধান্ত সরকারের। রাত আটটার মধ্যেই সমস্ত দোকান ও শপিংমল বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি রেস্তোরাঁ ও বেকারিগুলোকে রাত দশটা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠান ও অন্যান্য সামাজিক জমায়াতের উপরেও কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। কিন্তু হ্যাঁ, খাইবার পাখতুনখোয়ার কিছু কিছু অংশে রাত ন’টা পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হলেও সামগ্রিকভাবে এই সিদ্ধান্ত যে ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের পথে বসাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল পাকিস্তান সরকার জ্বালানির দামে যে পরিমাণ বৃদ্ধি ঘটায় তা সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম একধাক্কায় একেবারে আকাশ ছোঁয়। লিটার প্রতি ৩২১.১৭ রুপি থেকে বাড়িয়ে ৪৫৮.৪১ রুপি করা হয় পেট্রোলের দাম যা ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি। অন্যদিকে হাই-স্পিড ডিজেল ৩৩৫.৮৬ রুপি থেকে একলাফে ৫২০.৩৫ রুপি করা হয়েছে যা প্রায় ৫৫ শতাংশ ঊর্ধ্বগতি। আর কেরোসিনও প্রতি লিটার এখন ৪৫৭.৮০ রুপিতে মিলছে।
এদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ার উপর প্রাকৃতিক গ্যাসের লোডশেডিং এর ফলে সিএনজি স্টেশনগুলিও কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যার ফলে বেশিরভাগ স্কুল ভ্যান ও বাস মালিকরা পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ পেট্রোলের দাম বাড়ায় গাড়ি চালানো তাদের পক্ষে এখন ক্ষমতার বাইরে। পাশাপাশি যেটুকু পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সচল রয়েছে, পেট্রোলের দাম বাড়ার কারণে তাও বন্ধ হওয়ার জো। এমনকি ভাড়াও মধ্যবিত্তর ধরাছোঁয়ার বাইরে। সেই কারণে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধের মধ্যেই হঠাৎ ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ইরান, হরমুজ নিয়েও খুলল মুখ
এ বিষয়ে দেশের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, দেশের রাজকোষ সামাল দেওয়ার জন্য এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে দেওয়া অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্যই সাধারণ মানুষের উপর বোঝা চাপাতে বাধ্য হয়েছে পাক সরকার।












