সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের অশান্তির আগুন পাকিস্তানে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে আবারো রক্তক্ষয়ী জঙ্গি হামলা (Pakistan Explosion)। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বনপ্রান্তরের একটি থানায় বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা (Terrorism)। জানা যাচ্ছে, এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৫ জন সাধারণ নাগরিকের প্রাণ গিয়েছে। যাদের মধ্যে তিনজন মহিলা এবং একটি শিশু রয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় থানার একাংশ গুঁড়িয়ে গিয়েছে, এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আশেপাশের বেশ কিছু ঘরবাড়ি।
নিশানায় ছিল পুলিশ স্টেশন
পুলিশ সূত্রে খবর, বান্নু জেলার ডোমেল তহসিল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘাতক আত্মঘাতী বোমা বোঝাই বিস্ফোরক ভর্তি গাড়িটি সজরে থানায় ধাক্কা মেরেছিল। আর বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী হয় যে কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত তার আওয়াজ শোনা যায়। এমনকি ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকারী দল ৫টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। আর হামলায় অন্তত চারজন পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হয়েছে বলেই খবর। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এমনকি বিস্ফোরণের পর ওই এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আরও আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
উল্লেখ্য, এই হামলার ঠিক কয়েকদিন আগেই মার্কিন কংগ্রেসানাল রিসার্চ সার্ভিস এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট পেশ করে। ২৫ মার্চ প্রকাশিত ওই রিপোর্টে দাবি করা হয় যে, পাকিস্তান এখনো পর্যন্ত সন্ত্রাসবাদীদের জন্য একটি নিরাপদ স্বর্গ রাজ্য হিসেবেই রয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়, পাকিস্তান এবং তাদের সেনাবাহিনী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে। এমনকি অনেক নিষিদ্ধ গোষ্ঠী এবং জঙ্গি নেতা এখনও পর্যন্ত সেই দেশে প্রকাশ্যে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
Deadly Blast in Pakistan Claims Family of Five, Leaves Woman Critically Injured
A suicide blast near a police station in Domail, Bannu (Khyber Pakhtunkhwa), killed a doctor and his three children, while his wife remains in critical condition.
The explosion also damaged nearby… pic.twitter.com/ZCFEIj4QCh
— Aamaj News English (@aamajnews_EN) April 2, 2026
সবথেকে বড় ব্যাপার, লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের মতো কুখ্যাত দুই জঙ্গি সংগঠন এখনো পর্যন্ত পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে ভারতে বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীরে নাশকতামূলক কাজ চালাচ্ছে এবং দিনের পর দিন আক্রমণ করছে। আর পাকিস্তানের নিজস্ব ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান থাকা সত্ত্বেও সশস্ত্র বাহিনীদেরকে দমন করতে সে দেশের প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে বলেই ওই মার্কিন রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: মধ্যবিত্তদের স্বস্তি দিয়ে অনেকটাই দাম কমল সোনা, রুপোর
রিপোর্ট অনুযায়ী, ৯০ এর দশকে তৈরি হওয়া লস্কর-ই-তৈবা ১৯৯৩ সাল থেকেই ভারতকে লক্ষ্য করে দিনের পর দিন হামলা চালিয়ে আসছে। আর পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানেও তাদের নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি জামাত-উদ-দাওয়ার মতো ফ্রন্ট সংগঠনগুলির মাধ্যমেও তারা এখন নিজেদের কাজ করে বেড়াচ্ছে। যদিও খাইবার পাখতুনখোয়ায় এই হামলার পর গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে পাক সেনা এবং পুলিশ। উদ্ধারকার্য এখনো পর্যন্ত চলছে। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।












