ভারতকে চাপে ফেলার মতলব, বাংলাদেশের বিদ্বেষের পিছনে ভূমিকা পাকিস্তানের ISI-র?

Published:

ISI on Bangladesh

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: হিংসার আগুনে কার্যত জ্বলছে ওপার বাংলা। হ্যাঁ, সাম্প্রতিক সময় একের পর এক ভারত বিদ্বেষী হিংসাত্মক ঘটনায় তুলকালাম অবস্থা বাংলাদেশের। তবে তার নেপথ্য নাকি পাকিস্তানের আইএসআই সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে! এমনই অভিযোগ উঠছে (ISI on Bangladesh)। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত বীণা সিক্রি স্পষ্ট দাবি করেছেন, পাকিস্তান পরিকল্পিতভাবেই বাংলাদেশকে অশান্ত করার জন্য চেষ্টা করছে, আর ভারতের উপর কৌশলগত চাপ তৈরি করছে।

জামাত-ই-ইসলামি আইএসআই এর মদতপুষ্ট?

বীণা সিক্রি বলছেন, বাংলাদেশের কঠোরপন্থী ইসলামী সংগঠন জামাত-ই-ইসলামিকে ব্যবহার করেই আইএসআই অশান্তি মূলক কার্যকলাপ করে বেড়াচ্ছে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে যে এটি স্থানীয় রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় কোনও বিদ্বেষ। কিন্তু বাস্তবে এর পিছনে পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল রয়েছে। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, জামাত-ই-ইসলামি যা করছে তার পেছনে পাকিস্তানের ইচ্ছাই রয়েছে। আর পাকিস্তান যা চায় তা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হয়ে উঠছে জামাত-ই-ইসলামি।

এদিকে বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য এখন তিনটি। তা হল- বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটানো, আর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দখল করা। এমনকি বীণা সিক্রি দাবি করছেন যে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিক এবং আইএসআই অফিসাররাই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর একাংশের উপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে। আর তাদের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের নেতৃত্বকে নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে ভারতের উপর পরোক্ষভাবে আক্রমণ করা যায়।

আরও পড়ুন: কে এই ওসমান হাদি? যার মৃত্যুতে জ্বলছে গোটা বাংলাদেশ!

বলাবাহুল্য, পাকিস্তানি সেনা এবং নিরাপত্তা মহলের একাংশ আগেই স্বীকার করেছে যে, জয়িশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তৈবার মতো জঙ্গি সংগঠনগুলি বাংলাদেশ ঘাঁটি গেড়ে সক্রিয় অবস্থান করছে। সেক্ষেত্রে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করাই পাকিস্তান ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছে যে, বাংলাদেশকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতে ফের জঙ্গি কার্যকলাপ জোরদার করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা পরেশ বড়ুয়া এখনও ঢাকায় লুকিয়ে রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে আরও এক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশে পাকিস্তান থেকে অর্থনৈতিক এবং ডিজিটাল সহায়তা আসছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের কিছু নির্দিষ্ট মিডিয়াকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। বহু সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল পাকিস্তান থেকেই পরিচালনা করা হচ্ছে। আর সেগুলো দিনের পর দিন ভারত বিরোধী প্রচার চালাচ্ছে। আর তাদের মূল বক্তব্য একটাই, ভারতই শেখ হাসিনার রক্ষাকর্তা এবং ভারতের কারণেই বাংলাদেশে সংকট।

google button