সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চিন্তা বাড়াচ্ছে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত যুদ্ধ (Afghanistan-Pakistan War)। হ্যাঁ, দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নতুন করে আবার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলেই দাবি করছে তালিবান শাসিত আফগানিস্তান। যদিও এই দাবি ইসলামাবাদ সম্পূর্ণরূপে খারিজ করে দিয়েছে। আর দুই প্রতিবেশী দেশের পাল্টা অভিযানে পরিস্থিতি দিনের পর দিন জটিল হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই উত্তেজনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে।
কাবুলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোরবেলা কাবুলে বিস্ফোরণের শব্দ এবং যুদ্ধ বিমানের আওয়াজ শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্রগুলি দাবি করে। তবে তার কয়েক ঘণ্টা আগেই তালিবান প্রশাসন জানায় যে, সীমান্তবর্তী একাধিক পাকিস্তানি সামরিক পোস্ট তারা দখল করে ফেলেছে। এমনকি তালিবানের মুখপাত্র জাবিবুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেন যে, পাকিস্তান কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিকা অঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত হতাহতের নির্দিষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি।
আফগানিস্তানের পাল্টা অভিযানের দাবি
এদিকে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত থাকে তারা পাল্টা অভিযান শুরু করেছিল। পাকতিকা, পাকতিয়া, খোস্ত, নাঙ্গারহার, কুনার ও নুরিস্তান প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি তাদের দাবি অনুযায়ী, এতে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয় আর একাধিক মৃতদেহ আফগান ভূখণ্ডে আনা হয়। সবথেকে বড় ব্যাপার, কয়েকজন সেনাকে জীবিত আটক করা হয়েছে এবং দুটি সামরিক ঘাঁটি ও ১৯টি পোস্ট দখল করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি ট্যাংকার ধ্বংস করা হয়েছে এবং সামরিক যানগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে এই তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে আফগানিস্তান স্বীকার করেছে, সংঘর্ষে আটজন তালিবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং ১১ জন আহত হয়েছে। আর নাঙ্গারহারের একটি শরণার্থী শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিরীহ মানুষের প্রাণ গিয়েছে।
পাল্টা দাবি পাকিস্তানের
এদিকে পাকিস্তানের তরফ থেকে নিহতদের সংখ্যা অনেক কম বলেই দাবি করা হচ্ছে। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করছেন যে, পাকিস্তানের দু’জন সেনা নিহত হয়েছে এবং তিনজন আহত হয়েছে। আর পাল্টা অভিযানে মোটামুটি ৩৬ জন আফগান যোদ্ধা খতম হয়েছে বলেও তাদের দাবি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের কার্যালয় জানিয়েছে যে, দেশে সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং রাষ্ট্রপতিও কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, শান্তিকে দুর্বলতা মনে করলে তার জবাব কঠোর ভাবেই দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: হাওড়া ডিভিশনে বাতিল ৬৫টি লোকাল ট্রেন, তালিকা দিল পূর্ব রেল
জানিয়ে রাখি, ২৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ডুরান্ড লাইন ঐতিহাসিকভাবেই দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু। আর আফগানিস্তান এই সীমান্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও দিন স্বীকৃতি দেয়নি। গত কয়েক মাসে একাধিক ছোটখাটো সংঘর্ষ হলেও সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ দুই দেশের পরিস্থিতিকে একেবারে উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি কাতারের মধ্যস্থতায় অতীতে যুদ্ধবিরতি হলেও তা স্থায়ী হয়নি। আর বর্তমানে দুই দেশ নিজেদের অবস্থানে অনড়। পাকিস্তান একরকম দাবি করছে, অন্যদিকে আফগানিস্তানও পাল্টা দাবি করছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে বাড়াচ্ছে উদ্বেগ। এখন দেখার এই দুই দেশের সম্পর্ক ঠিক কবে স্বাভাবিক হয়।












