‘আর ২৫০ কিমি নয়, এবার ভারতের ভিতরে ঢুকে হামলা করব’ হুঁশিয়ারি পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর

Published:

Khawaja Asif on India

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার কি ভারতের জন্য ডার কা মহল? হ্যাঁ, পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা (India-Pakistan Tension) চরমে পৌঁছানোর মাঝেই ভারতকে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দিলেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ (Khawaja Asif on India)। এক ভাসনে তিনি বিস্ফোরক দাবি করলেন যে, আগামীতে কোনও সংঘাত হলে তা শুধুমাত্র সীমান্ত এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পাকিস্তান বাহিনী ভারতের অনেক গভীরে ঢুকে আরএসএস ক্যাম্প এবং বসতবাড়িগুলিতে হামলা চালাবে। তাহলে কি ফের যুদ্ধের আঁচ?

বিতর্কিত মন্তব্য খাজা আসিফের

আসলে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আক্রমণাত্মক সুরে বলেছেন, এবার লড়াই শুধুমাত্র কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইনশাল্লাহ, আমরা ওদের সীমানার ভেতরে ঢুকেই ঘরের মধ্যে গিয়ে মারবো। গত বছরের থেকেও বড় অপমানের মুখোমুখি হতে হবে ভারতকে। এমনকি তিনি আরও যোগ করেন, আপনারা ভারতের কথা বলছেন। জেনে রাখুন, তারা যদি আবার চেষ্টা করে, তাহলে আগের থেকে বেশি লাঞ্ছিত হবে। এবার যুদ্ধ হবে ভারতের অনেক গভীরে। আমরা ওদের আরএসএস সদস্যদের ক্যাম্পে আঘাত হানবো।

রাজনাথ সিং এর পাল্টা হুঁশিয়ারি?

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছিলেন। তিনি জানান, সীমান্তে কোনও রকম দুঃসাহস দেখালেই ভারত নজরবিহীন পদক্ষেপ নেবে। ধারণা করা হচ্ছে, রাজনাথ সিং এর সেই বক্তব্যের পাল্টা হিসেবেই এবার খাজা আসিফ বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তবে হ্যাঁ, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এরকম মন্তব্য নতুন কিছু নয়। কারণ, এর আগে ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাই কমিশনার আব্দুল বাসিতও একই ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, যদি আমেরিকা আমাদের উপর হামলা করে, তাহলে আমরা দিল্লি এবং মুম্বাই এর মতো শহরগুলোর উপরে আক্রমণ করব। আমাদের পাল্লা সেখানে না পৌঁছলেও কেউ আমাদের দিকে বাঁকা চোখে তাকালে আমরা ভারতকে সবথেকে বড় শত্রু হিসেবে আঘাত করব।

আরও পড়ুন: ৩৫০০ কিমি দূরে ছুঁড়বে মিসাইল, ভারতীয় নৌসেনা পেল পরমাণু অস্ত্র বহনকারী ডুবোজাহাজ INS অরিদমন

বেশ কিছু প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, খাজা আসিফের এই বক্তব্য মূলত পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকটের থেকে নজর কাড়ার কৌশল। বর্তমানে পাকিস্তান একাধিক সমস্যার সম্মুখীন। কারণ, পশ্চিম সীমান্তে আফগান-তালিবানের সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধ চলছেই। এছাড়া বালুচিস্তান, পাঞ্জাব এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ব্যাপক জনবিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে পাক সরকারকে। আর মুদ্রাস্ফীতি ও ঋনের বোঝা পাকিস্তানকে দিনের পর দিন পঙ্গু করে দিচ্ছে। তার উপর তো জ্বালানি সংকট রয়েছেই। এক কথায়, যুদ্ধ চালানোর আর্থিক সক্ষমতা পর্যন্ত এখন পাকিস্তানের নেই। তার উপর এরকম বড় বড় বাতেলা ঠিক কতটা যুক্তিসাধ্য তা নিয়েই থাকছে সংশয়।

google button