ট্রাম্প না থাকলে সাড়ে ৩ কোটি মানুষ মরত! ভারত-পাক যুদ্ধ নিয়ে বলেছেন শেহবাজ

Published:

Donald Trump
Follow

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ থামানোর দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump)। মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট বলেছেন, তাঁর হস্তক্ষেপ না থাকলে দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ ভয়াবহ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ত। ট্রাম্পের কথায়, আমার প্রথম ১০ মাসে আমি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি। পাকিস্তান ও ভারত পরমাণু যুদ্ধে ছড়িয়ে পড়ত। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছিলেন, আমি না থাকলে সাড়ে তিন কোটি মানুষ নাকি মারা যেত।

আসলে গত বছর পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। ভারতীয় সেনা অপারেশন সিঁদুর চালিয়ে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়। এরপর দুই দেশের সেনার মধ্যে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য টানাপোড়েন দেখা গিয়েছিল। আর শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষবিরতিতে আবদ্ধ হয় ভারত-পাক। সেই সময় থেকেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে, তাঁর উদ্যোগেই নাকি সংঘর্ষবিরতি সম্ভব হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে অন্তত ৫০ বারেরও বেশি তিনি এহেন দাবি করেছেন।

ভারতের অবস্থান

তবে নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারত আর পাকিস্তান নিজেদের উদ্যোগেই সংঘর্ষ বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কোনও রকম তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্ততা এর ভিতর ছিল না। সরকারি সূত্র মারফৎ খবর, গত ১০ মে পাকিস্তানের ডিজিএমও পর্যায়ে যোগাযোগ করেই সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল ,এবং ভারত তাতে সম্মত হয়। আর সেই প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্পের মন্তব্যকে নয়াদিল্লি একেবারে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারতকে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকতে জিম্বাবুয়েকে কত রানে হারাতে হবে?

বেশ কিছু বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘর্ষবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের একতরফা কৃতিত্ব দাবি করার পর থেকে ভারত ও আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানি ঠেকেছে। এমনকি বাণিজ্য চুক্তি আলোচনাতেও তার প্রভাব পড়ছে। গত ডিসেম্বর মাসে ইজরায়েলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমি কি ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ বিরতিতে কোনও কৃতিত্ব পেয়েছি? না।” পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তান ছাড়াও ট্রাম্প একাধিক আন্তর্জাতিক সংঘাত বন্ধ করার দাবি করেছেন। সেই তালিকায় রয়েছে ইজরায়েল-হামাস, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান, সার্বিয়া-কোসোভো, রুয়ান্ডা-কঙ্গো, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড। যদিও এই দাবিগুলি নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে উঠছে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন।