সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আজকের দিনে বিনিয়োগের কথা উঠলেই বেশিরভাগ মানুষ প্রথমেই ফিক্সড ডিপোজিটর দিকে পা বাড়ান। নিরাপদ বিনিয়োগের তালিকার একদম সারিতে থাকে FD। আর এই মাধ্যমটি সাধারণ মানুষের কাছে বহুদিন ধরেই জনপ্রিয়। তবে অনেকেই জানেন না যে, ব্যাংকে ৫ লক্ষ টাকার বেশি রাখলে বড়সড় ঝুঁকি থাকে। হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন। কিন্তু কেন? চলুন জেনে নিই।
কেন ৫ লক্ষ টাকার বেশি রাখা উচিত নয়?
ভারতের ব্যাংকিং (Banking) ব্যবস্থা গ্রাহকদের জমা রাখা টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিপোজিট ইন্সুরেন্স এবং ক্রেডিট গ্যারান্টি কর্পোরেশন (DICGC) নামের এক বিশেষ ব্যবস্থা চালু করেছে। সূত্র বলছে, DICGC হল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের অধীনে একটি সংস্থা, যা ব্যাংকে রাখা গ্রাহকদের টাকা বীমা করে। আর এর ফলে কোন ব্যাংকে যদি দেউলিয়া হয়ে যায়, তাহলে গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবে। এর বেশি ফেরত পাওয়া নাও যেতে পারে।
৫ লক্ষ টাকার বেশি রাখলে কী হবে?
যদি কোন ব্যাংক হঠাৎ কোনো কারণে দেউলিয়া হয়ে যায় বা আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে, তাহলে শুধুমাত্র ৫ লক্ষ টাকা সুরক্ষিত থাকবে। হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন। ধরা যাক, আপনি একটি ব্যাংকে ১০ লক্ষ টাকা জমা রেখেছেন। এবার যদি কোনো কারণে ব্যাংকটি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আপনি ৫ লক্ষ টাকা ফেরত পাবেন না। অর্থাৎ, আপনি বড়সড় ক্ষতির মুখোমুখি পড়বেন।
ডিপোজিটের ক্ষেত্রে সতর্কতা মানুন
অনেক সময় মানুষ দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের জন্য ফিক্সড ডিপোজিটকেই বেঁছে নেন। কিন্তু কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরী। প্রথমত, একই ব্যাংকে ৫ লক্ষ টাকার বেশি জমা রাখবেন না। বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা ভাগ করে রাখুন। এতে আপনারই ভালো। FD ছাড়াও অন্যান্য উপায়ে বিনিয়োগ করুন, যেমন মিউচুয়াল ফান্ড, পোস্ট অফিসের স্কিম ইত্যাদি।
আপনার টাকা কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন?
যেমনটা বলা হল, ৫ লক্ষ টাকার বেশি একটি ব্যাংকে রাখবেন না। বরং কয়েকটি ব্যাংকে ভাগ করে রাখলে আর্থিক ঝুঁকি কম থাকবে। পাশাপাশি যৌথ অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ৫ লক্ষ টাকা বীমা করতে পারেন। সম্পূর্ণ টাকা ব্যাংকে না রেখে অন্যান্য বিনিয়োগের মাধ্যম যেমন সোনা, সরকারি স্কিম, মিউচুয়াল ফান্ড ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যবাসীর জন্য বিরাট খবর! ১ টাকা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম কমাল সরকার
যদিও ফিক্সড ডিপোজিটকে নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে ধরা হয়, কিন্তু অতিরিক্ত টাকা ব্যাংকে রেখে নিশ্চিন্তে থাকা মোটেও উচিৎ নয়। তাই DICGC এর সীমা মেনে চলুন এবং বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা ভাগ করে রাখুন। অর্থ সঞ্চয়ের পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা করলে ভবিষ্যতে সুরক্ষিত থাকবে এবং কোনরকম আর্থিক ঝুঁকি থাকবে না।
গুরুত্বপূর্ণ খবরের জন্য | Join Group |
চাকরির খবরের জন্য | Join Hood Jobs |
রাশিফলের জন্য | Join Hood Rashifal |
খেলার খবরের জন্য | Join Whatsapp |