সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনে বিধানসভা নির্বাচন। সেই কারণে এবার টিকে থাকার জন্য একদিকে যেমন রাজ্যের শাসকদল বাজেটে একাধিক জনমুখী প্রকল্প চালু করেছে, ঠিক তেমনই রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপিও দিচ্ছে একাধিক প্রস্তাব। হ্যাঁ, মমতার যুবসাথীকে চ্যালেঞ্জ করে এবার গেরুয়া শিবির যুবকদের ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রাখল, এবং এই অনুদানের নাম দেওয়া হচ্ছে উৎসাহ ভাতা (Utsaho Bhata)। কিন্তু কী কী সুবিধা মিলবে আর কারা সুবিধা পাবে বলে জানাল রাজ্যের বিরোধী দল? জানুন বিশদে।
ভোটের আবহে বড় চমক বিজেপির
বঙ্গ রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ভোটের দামামা। একদিকে শাসক দল যেমন নিজেদের সিংহাসন আঁকড়ে রাখার জন্য জোরকদমে চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী দল ক্ষমতায় আসার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। এবারের বাজেটে এমনিতেই তৃণমূল সরকার রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য চালু করেছে যুবসাথী প্রকল্প, যেখানে মাধ্যমিক পাস করলেই দেওয়া হচ্ছে ১৫০০ টাকা করে ভাতা। তবে এবার তারই পাল্টা প্রস্তুতি নিল গেরুয়া শিবির।
চালু হচ্ছে উৎসাহ ভাতা
বিজেপির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এবার ১৮ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত বেকারদের যোগ্যতা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, এবং তার জন্য উৎসাহ ভাতা বাবদ প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে বেকারদের হাতে। তবে প্রশিক্ষণ না দিলে বা মাঝ পথে ছেড়ে দিলে সেই ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে বিজেপির যুব মোর্চার এক নেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ১৫০০ টাকায় কোনও প্রাপ্তবয়স্কের সংসার চলে না। আর শুধু ভাতা থাকলে আদতে কোনও লাভ হবে না এবং কর্মসংস্থান তৈরি হবে না। আমাদের প্রকল্পে যুবসমাজের আর্থিক সুরক্ষা বজায় থাকবে আর তারা কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে পাবে।
বিজেপির তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এবার নির্বাচন ঘিরে একাধিক চমক থাকবে। এ বিষয়ে সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, ভাতা সর্বস্ব করে দিতে আমরা কখনো চাইনা। সেটা করবোও না। পাশাপাশি বিজেপি এও বলেছে, মানুষ যাতে নিজের পায়ে দাঁড়ায় আর সেই সঙ্গে যুবকদের কর্মসংস্থান হয়, তার জন্যই আমরা বদ্ধপরিকর। তৃণমূল রাজ্যটাকে কয়েক দশক পিছিয়ে রেখেছে। এই মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন সবদিক প্রয়োজন। ভাতা দিয়ে কোনও কিছুই উন্নতি হবে না। সেই কারণেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।
আরও পড়ুন: মার্চেই উদ্বোধন হচ্ছে গোটা কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে, সুখবর শোনাল রাজ্য সরকার
তবে হ্যাঁ, এই প্রকল্প চালু হলে আবেদন করার জন্য বেকারদের ঠিক কী যোগ্যতা লাগবে বা কীভাবে আবেদন করতে হবে, কী কী ডকুমেন্ট লাগবে সেই সমস্ত কোনও তথ্য জানানো হয়নি। আগে বিজেপির তরফ থেকে এই প্রকল্প চালু হয় কিনা দেখার, তারপরই বিস্তারিত জানা যাবে।












