সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের অর্থনীতির জন্য আবারো বিরাট ধাক্কা। বিশ্ববাজারে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে ফের রেকর্ড পতন ভারতীয় মুদ্রার (Indian Rupee)। শুক্রবার সকালে লেনদেন শুরু হতে আমেরিকান ডলারের (United States Dollar) তুলনায় টাকার দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড ভেঙে একেবারে তলানিতে ঠেকল। বর্তমানে প্রতি ১ ডলারের বিনিময় বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৪.৮১ টাকা। আর এর আগে টাকার দর ৯৩.১৫ পর্যন্ত নামলেও আজকের পতন সমস্ত রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে।
কেন এই রেকর্ড পতন?
আসলে আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতীয় মুদ্রার এই করুণ দশার পেছনে দায়ী। এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, আমেরিকা-ইজরায়েল এবং ইরানের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দিনের পর দিন বাড়ছে। এমনকি ব্রেন্ড ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর ভারত প্রয়োজনের প্রায় ৮৮ শতাংশ তেল আমদানি করে থাকে। যার ফলে ডলারের চাহিদা এখন দিনের পর দিন বাড়ছে।
দ্বিতীয়ত, যুদ্ধের আগে শেয়ারবাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে টাকা তুলে নিয়ে বিনিয়োগকারীরা এবার মার্কিন ডলারে বিনিয়োগ করছে। যার ফলে টাকার দাম দিনের পর দিন তলানিতে ঠেকছে। তৃতীয়ত, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে আনুমানিক ৫ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলে নিয়েছে, যা সরাসরি টাকার দামের উপর প্রভাব ফেলছে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে গোটা বিশ্বজুড়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে টাকার দামে।
আরও পড়ুন: ট্রেনের মতোই কলকাতা-বারাণসী বাসে বিশেষ সুবিধা, জানুন রুট ও ভাড়া
তবে টাকার এই পতন রুখার জন্য ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বাজারে ডলার ছেড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে কিনা এখন সেটাই দেখার। যদিও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষ যে আর কিছুদিনের মধ্যেই মুদ্রাস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হিমশিম খাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হয়। কারণ, টাকার দাম এইভাবে পতন হলে দিনের পর দিন ইএমআই বাড়বে, এমনকি বিদেশে পড়াশোনা বা ভ্রমণের খরচ অনেকটাই ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকবে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, মূল্যবৃদ্ধি হওয়ার কারণে বাজারে সবজি থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া হবে।












