সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিগত কয়েক মাস ধরে আকাশছোঁয়া সোনার দামে (Gold Price) সাধারণ মানুষ একেবারে নাভিশ্বাস হয়ে পড়েছিল। আমেরিকা, ইরান এবং ইজরায়েলের যুদ্ধের কারণে ১০ গ্রাম সোনার দাম তো ১.৬০ লক্ষ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে রেকর্ড তৈরি হয়েছিল। তবে এবার সোনা প্রেমীদের জন্য রয়েছে বড়সড় স্বস্তির খবর। কারণ, বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন যে, খুব শীঘ্রই সোনার দামে আরও ধস নামতে পারে এবং ১০ গ্রাম সোনার দাম ১.২৭ লক্ষ টাকার কাছাকাছি নেমে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
কেন কমছে সোনার দাম?
আসলে বিশেষজ্ঞরা সোনার এই দরপতনের পেছনে প্রধান চারটি কারণ উল্লেখ করেছে। তার মধ্যে প্রথমত রয়েছে ডলারের শক্তি বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের দাম দিনের পর দিন বাড়ছে। সাধারণত ডলার শক্তিশালী হলে সোনার চাহিদা এবং দাম উভয়ই কমে যায়। এদিকে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর যদি সুদের হার বেশি থাকে, তাহলে বিনিয়োগকারীরা সোনার থেকে ডলারে বেশি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়। অন্যদিকে সোনার দাম যখন ১.৫০ লক্ষ টাকা পার করেছিল, তখন বড় বিনিয়োগকারীরা সোনা বিক্রি করে মুনাফা তুলে নিয়েছিল। যার কারণে বাজারে যোগান বেড়ে গিয়ে দাম কমতে শুরু করেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার কারণে দিনের পর দিন মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আর অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার কারণে সোনার বাজার প্রভাবিত হচ্ছে।
বাজারে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনগুলোতে সোনা এবং রুপোর বাজারে মন্দাভাব দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে ভারতের বাজারে এমসিএক্স-এ বর্তমানে প্রতি ১০ গ্রাম সোনা পাওয়া যাচ্ছে ১,৪৪,৮২৫ টাকায়। আর সেই দাম নেমে আসতে পারে একেবারে ১,২৭,০০০ টাকায়। এমনকি আন্তর্জাতিক কমেক্স বাজারে বর্তমানে ১০ গ্রাম সোনার দাম ৪৫৭৪.৯০ মার্কিন ডলার। তাও নেমে আসতে পারে ৪২৫০ মার্কিন ডলারে।
আরও পড়ুন: IPL শুরুর আগেই বিরাট অ্যাকশন সরকারের, নিষিদ্ধ বহু অ্যাপ, প্ল্যাটফর্ম
আপনাদেরকে জানিয়ে রাখি, আজকের বাজার দর অনুযায়ী যদি সোনা কিনতে বা বেচতে যান, তাহলে অবশ্যই দাম মাথায় রাখা জরুরী। সেক্ষেত্রে ২৪ ক্যারেট পাকা সোনা ১ গ্রাম কিনতে গেলে খরচ পড়বে ১৪,৩৬৭ টাকা আর ২২ ক্যারেট গয়না সোনা ১ গ্রাম কিনতে গেলে খরচ পড়বে ১৩,৬৫০ টাকা এবং বিক্রি করতে গেলে পাবেন ১৩,০৭৪ টাকা। পাশাপাশি রুপো বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজিতে ২,৩১,৯৪১ টাকায়। তবে হ্যাঁ, সোনা এবং রুপোয় বিনিয়োগ সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন। আমরা শুধুমাত্র বাজার বিশ্লেষণ করে কিছু পরামর্শ দিয়ে থাকি।












