সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আমরা এতদিন সোনা (Gold), হীরা বা প্লাটিনামকে সব থেকে দামি জিনিস বলেই জানতাম। কিন্তু আপনি কি জানেন, যে এমন একটি কাঠ রয়েছে, যার ১০ গ্রামের দাম ১ কেজি সোনার সমান। কি অবাক হলেন তো? আসলে অবাক হওয়ারই কথা। সত্যি এই কাঠ এতটাই দুষ্প্রাপ্য এবং মূল্যবান, যে বিশ্ববাজারে এর চাহিদা এক কথায় আকাশছোঁয়া। তো চলুন এই রহস্যময় কাঠ সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।
কোন কাঠের কথা বলছি আমরা?
আসলে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কাঠের নাম ‘কিনাম’ (Kynam), যা আগরউড গাছের এক বিরল প্রজাতি। জানা যাচ্ছে, সাধারণ আগরউড মূল্য অনেক বেশি হলেও কিনাম আগরউড (Kynam Agarwood) এতটাই দুষ্প্রাপ্য যে এর দাম সোনার থেকেও অনেকগুণ বেশি।
বেশ কিছু সূত্র বলছে, বিশুদ্ধ আগরউডের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ৮৩ লক্ষ টাকা। কিন্তু কিনাম আগরউড এতটাই বিরল যে, মাত্র ১০ গ্রাম কিনতে গেলেই খরচ পড়বে ৮৫ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা। হ্যাঁ একদম ঠিকই শুনেছেন। যা প্রায় ১ কেজি সোনার মূল্যের সমান।
কেন এত দামি এই কাঠ?
আসলে কিনাম আগরউড শুধু যে বিরল কাঠ তা নয়। এটি বিভিন্ন সুগন্ধি এবং ঔষধি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এই কাঠ এতটাই সুগন্ধী এবং এতটাই শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী যে, বিশ্বের সবথেকে দামি পারফিউম এই কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়।
কীভাবে তৈরি হয় আগরউড?
বেশ কিছু তথ্য ঘেঁটে জানা গেল, প্রথমে Aquilaria গাছের গায়ে একটি ছিদ্র করা হয়। তারপর ওই ছিদ্রে বিশেষ এক প্রজাতির ছত্রাক প্রবেশ করানো হয়। গাছ সেই ছত্রাকের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ঘটনার জন্য গাঢ় কালো একরকম রেজিন উৎপন্ন করে। আর এই রেজিন যুক্ত কাঠ আগরউডে পরিণত হয়। পরে এই কাঠ থেকে নিষ্কাশন করা হয় Oud oil, যা বিশ্বের সবথেকে দামি সুগন্ধি তৈরীর মুখ্য উপাদান। আর জানলে চমকে উঠবেন, এই Oud oil প্রতি কেজি ২৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়।
কোথায় পাওয়া যায় কিনাম আগরউড?
কিনাম আগরউডের চাষ বিশ্বের খুব কম জায়গাতেই হয়। সূত্র বলছে, প্রধানত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য এবং ভারতের কিছু কিছু অংশে এই গাছ চাষ করা হয়। ভারতের অসম রাজ্যে সবথেকে বেশি আগরউড চাষ হয়। তাই অসমকে বলা হয় “ভারতের আগরউড রাজধানী”।
ঠিক কতটা বিরল এই কাঠ?
বিশ্বে প্রচুর পরিমাণে আগরউড পাওয়া গেলেও কিনাম আগরউড সব থেকে দুষ্প্রাপ্য এক সম্পদ। এটি এতটাই দুর্লভ যে, টাইটেনিয়াম, ইউরেনিয়াম এবং প্লাটিনামের চেয়েও এই জিনিস কম পাওয়া যায়। এটি আগরউড প্রজাতির সবথেকে উন্নতমানের সুগন্ধি কার্ড। এক সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এক ব্যক্তি ৬০০ বছরের পুরনো ১৬ কেজির একটি কিনাম আগরউড কাঠের টুকরো পেয়েছিলেন, যা কিনা তিনি ১৭১ কোটি টাকায় বিক্রি করেছিলেন।
আরও পড়ুনঃ পোস্ট অফিসের ১২ মাসের ফিক্সড ডিপোজিটে ২ লক্ষ টাকা রাখলে কত পাবেন সুদ?
আরো দিন দিন বাড়ছে দাম
এই গাছের চাহিদা এতটাই যে, এটি পাওয়া দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। সরবরাহ কম হওয়ায় দিনের পর দিন চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে কিনাম আগরউডের দাম দিন দিন বাড়ছে। অতিরিক্ত সংগ্রহের কারণে বনাঞ্চলও ধ্বংস হচ্ছে। ফল এর প্রাপ্যতা আরো হ্রাস পাচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ খবরের জন্য | Join Group |
চাকরির খবরের জন্য | Join Hood Jobs |
রাশিফলের জন্য | Join Hood Rashifal |
খেলার খবরের জন্য | Join Whatsapp |