সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আচ্ছা, আপনাকে যদি বলি এখনও পর্যন্ত আধুলি বা ৫০ পয়সা (Indian 50-Paisa Coin) ভারতে সচল, তাহলে আপনি কি বিশ্বাস করবেন? হ্যাঁ, খাতায় কলমে এখনও এই পয়সা সচল। কিন্তু ব্যবহারের ক্ষেত্রে অচল। হাটে বাজারে এই পয়সার কারবার দেখা যায় না আজ থেকে ১৫ বছর তো হলোই। এমনকি ব্যাঙ্কে জমা দিতে গেলেও আধিকারিকরা তা নেয় না। তবে এবার সেই আধুলি নিয়েই বিরাট পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
বাতিল হবে ৫০ পয়সা?
কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বারবার জানিয়েছে, ৫০ পয়সা এখনও পর্যন্ত আগের মতোই সচল এবং তা দিয়ে লেনদেন করতে হবে। ফেরানো যাবে না। যদি কেউ না নিতে চায় তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলাও করা যেতে পারে। তবে বাস্তবে সেই কথা কেউই শুনছে না। বরং, দান বা ভিক্ষাপাত্রে কার্যত অচল এই আধুলি। সেই কারণে এখন প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি বাড়িতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এই আধুলি বাতিলের পথে হাঁটবে? এ বিষয়ে ব্যাঙ্কের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিষয়টি অর্থনীতির ক্ষেত্রে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। কারণ, দুটি কারণেই যে কোনও মুদ্রা বাতিল হয়ে থাকে। প্রথমত, যদি সেই মুদ্রার ভ্যালু কমে, আর দ্বিতীয়ত, বাজারে যদি মুদ্রাটির গ্রহণযোগ্যতা না থাকে।
কিন্তু বর্তমানে দ্বিতীয় কারণটি সবথেকে বড় বাধা হয়ে উঠছে। কারণ, বাজারে এই মুদ্রা কেউই নিতে চাইছে না। তবে মুদ্রানীতি সংক্রান্ত ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মনিটরি পলিসির ৩ সদস্যের কমিটি রয়েছে, যেখানে এই কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষ করে বার্ষিক ভিত্তিতে প্রাপ্ত চাহিদার উপরেই মুদ্রার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। তবে ৫০ পয়সার চাহিদা সংক্রান্ত কোনও তথ্য আজ পর্যন্ত যে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কে কাছে দাখিল হয়েছে, এমন কোনও রেকর্ড নেই আধিকারিকদের কাছে।
আরও পড়ুন: অনলাইনে শুরু হল যুবসাথীর আবেদন, কীভাবে করবেন জেনে নিন A টু Z
এদিকে কোনও মুদ্রা বাতিল হলে তা সরাসরি যেমন ব্যাঙ্কের কাছে জমা দেওয়া যায়, ঠিক তেমনই ভেন্ডিং মেশিন বানাতে হয় সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে। তবে ৫০ পয়সার ভেন্ডিং মেশিন এখনও পর্যন্ত গোটা দেশজুড়ে কোথাও বসেনি। আর গত ১৫ বছর ধরেই ভারতের কোনও শহরে এই ৫০ পয়সার মুদ্রা বা আধুলি ব্যবহার হয় না বলেই জানিয়েছেন এক আধিকারিক। এমনকি ২০১১ সালের জুন মাসে ২৫ পয়সার কয়েন বন্ধ হয়। তবে সেটি নিয়ম মেনেই বন্ধ করা হয়েছিল। তবে আজ পর্যন্ত ৫০ পয়সা বন্ধ করার বিষয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কোনও কিছুই জানায়নি। এ বিষয়ে ব্যাঙ্কের এক আধিকারিক বলেছেন, ৫০ পয়সা বর্তমানে সবথেকে কম মানের মুদ্রা। তাই অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষের এই মুদ্রা নিয়ে কোনও রকম মাথাব্যাথা নেই। তবে আমরা প্রচার চালাচ্ছি, যাতে এই মুদ্রা বন্ধ না হয়।











