১ বছরে তিনগুণ লাভ! টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে কলাচাষ করে বিরাট কৃতিত্ব চাষির

Published:

Banana Farming
Follow

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশজুড়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার যেন দিনের পর দিন বাড়ছে। উৎপাদন বাড়ানো থেকে শুরু করে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ভূমিকা নিচ্ছে। সে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প হোক বা রাজ্য সরকার। সেই ধারাতেই এবার উত্তরপ্রদেশের এক কৃষক টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে কলা চাষ (Banana Farming) করে এক বছরে তিনগুণের থেকে বেশি মুনাফা অর্জন করে কৃতিত্ব গড়েছেন। এবার নিশ্চয়ই ভাবছেন কীভাবে? জানতে হলে পড়ুন এই প্রতিবেদনটি।

কৃষক বিজয় বর্মার সাফল্যের গল্প

নবভারতের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়, উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা জেলার কৃষক বিজয় বর্মা আধুনিক পদ্ধতিতে কলা চাষ শুরু করেছিলেন। তবে সেই কলা চাষই আর্থিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে তাঁর। হ্যাঁ, তিনি ‘একীকৃত দ্রুত উদ্যান উন্নয়ন’ মিশন প্রকল্পের আওতায় টিস্যু কালচার কলা চাষের বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন। তারপর স্থানীয় উদ্যান দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তা নিয়েছিলেন।

জানা যায়, বিজয় বর্মা প্রায় ১ হেক্টর জমিতে ১.৫ লক্ষ টাকা প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগ করে এই কাজ শুরু করেন। আর সেখানে মোট ৩০৮৬টি চারা রোপণ করা হয়। এমনকি প্রতিটি চারা গাছ ৬×৬ ফুট দূরত্বে বসানো হয়, আর প্রতিটি গর্তে ৭ থেকে ৮ কেজি পচা গোবর সার এবং ৩০ থেকে ৪০ গ্রাম এনপিকে সার প্রয়োগ করা হয়। পাশাপাশি নিয়মিত আগাছা পরিস্কার এবং সেচ ব্যবস্থাপনার উপর জোর দিতেন তিনি। আর ছত্রাকের আক্রমণ রুখার জন্য কপার অক্সিক্লোরাইড জাতীয় ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতেন। জানলে অবাক হবেন, মাত্র ১১ থেকে ১২ মাসের মধ্যেই কলা উৎপাদন করে ফেলেন ওই কৃষক।

এদিকে ১ হেক্টর জমি থেকে মোট ৭৫০ কুইন্টাল কলা উৎপাদন করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আর সেই কলা নিকটবর্তী পাইকারি সবজি বাজারে প্রতি কুইন্টাল ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে বিক্রি করেন। সেখান থেকে তাঁর ৫ লক্ষ টাকার বেশি আয় হয়। অর্থাৎ, ১.৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগে প্রায় তিনগুণের বেশি রিটার্ন পেয়েছেন ওই কলা ব্যবসায়ী।

আরও পড়ুন: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা দিন ঘোষণা সুপ্রিম কোর্টের, বড় নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

কেন টিস্যু কালচার পদ্ধতি লাভজনক?

বলে রাখি, টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে উৎপাদিত চারা সাধারণত রোগমুক্ত হয়ে থাকে আর সমজাতীয় হয়। পাশাপাশি এই পদ্ধতিতে চাষ করলে খুব দ্রুত হারে চারা গাছ বৃদ্ধি পায়। যে কারণে ফলন বেশি হয় আর গাছের বৃদ্ধিও সমান হয় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই অনেক কৃষক এখন ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির বদলে এই আধুনিক প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন এবং প্রচুর পরিমাণ মুনাফা উপার্জন করছেন।