সহেলি মিত্র, কলকাতা: ভ্রমণপিপাসু বাঙালিদের মধ্যে ঘুরতে যাওয়ার যখনই প্রসঙ্গ ওঠে তখন মাথায় আসে একটাই নাম উত্তরবঙ্গ (North Bengal)। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং থেকে শুরু করে কালিম্পং, কার্শিয়াং, পার্শ্ববর্তী সিকিম পর্যটকদের শরীর ও মন দুইই চাঙ্গা করে দেয়। এদিকে গরমের ছুটি (Summer Vacation) পড়তেও খুব একটা বেশি দেরি নেই । ফলে এই ছুটি গুলোকে কাজে লাগিয়ে আপনি উত্তরবঙ্গের এমন কিছু জায়গা আছে যেখান থেকে কম খরচে বা বেশি খরচ করে অনায়াসেই ঘুরে আসতে পারেন। আজকের এই প্রতিবেদনে আপনাদের উত্তরবঙ্গের ৪টি এমন অফবিট (North Bengal Offbeat) ডেস্টিনেশনের খোঁজ দেওয়া হবে যেখানে গেলে আর আপনি ফিরে আসতে চাইবেন না।
বিদ্যাং
বিদ্যাং, কালিম্পং-এর নিকটবর্তী একটি নতুন পর্যটন কেন্দ্র। বিদ্যাং শান্ত রেলি নদীর তীরে এক সবুজ নদী উপত্যকায় অবস্থিত। বিদ্যাং কালিম্পং শহর থেকে প্রায় ১৫ কিমি দূরে অবস্থিত এবং সেখানে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘন্টা সময় লাগে। এটি কিন্তু কোনো গতানুগতিক পর্যটন কেন্দ্র নয়। বরং, এটি এমন এক গন্তব্য, যেখানে ভ্রমণ ও অবস্থানই হল মূল আকর্ষণ। উপত্যকার মধ্য দিয়ে এঁকেবেঁকে বয়ে চলা শান্ত রেলি নদী, আপনাকে এক আলাদাই ভালো লাগার অনুভূতি দেবে। বিচিত্র উদ্ভিদ ও প্রাণীতে ভরপুর ঘন জঙ্গলে ঘেরা এক মনোরম জায়গা হল এই বিদ্যাং। নিশ্চয়ই ভাবছেন কীভাবে বিদ্যাং পৌঁছাবেন? বিদ্যাং কালিম্পং শহর থেকে প্রায় ১৫ কিমি দূরে অবস্থিত। কালিম্পং থেকে পৌঁছানোর জন্য কালিম্পং লাভা রোড ধরে যেতে হবে। অ্যালবার্ট ভিলার প্রবেশদ্বার থেকে আপনি মূল রাস্তা ছেড়ে রেল্লির দিকে নেমে যাওয়া ডানদিকের রাস্তাটি ধরবেন। রেল্লি সেতু থেকে বিদ্যাং যেতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। বিদ্যাং যাওয়ার এই যাত্রা এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। রাস্তাটি ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যায়।
মঝৌল
আপনিও যদি একদম অফবিট পাহাড়ি গ্রামে থাকতে পছন্দ করে থাকেন তাহলে এই মঝৌল আপনার জন্য হতে পারে একদম আদর্শ জায়গা। এখানে আপনি সুদৃশ্য পাহাড় এবং পাহাড়ি নদীর সান্নিধ্যে থাকতে পারবেন। এখানে গেলে আপনি এক টুকরো সিকিম দেখতে পাবেন। মঝৌলে থেকে সিকিমের ঋষিখোলার দূরত্ব মাত্র চার কিলোমিটার। এখান থেকে সিকিমের সিল্ক রুট ট্রিপে যেতে পারেন। কীভাবে যাবেন ভাবছেন? তাহলে এর জন্য শিলিগুড়ি বা উত্তর ভারতের প্রবেশদ্বার নিউ জলপাইগুড়ি থেকে গ্যাংটকগামী গাড়িতে মঝৌলে যাওয়া যায়।
দাওয়াইপানি
আজ আমরা ‘দাওয়াই পানি’ নামের একটি গ্রামের কথা বলছি, যা দার্জিলিং থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে, টাইগার হিলের বিপরীতে ৬,৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এই গ্রামটি ঘন হিমালয়ী জঙ্গলে ঘেরা। এখানে পর্যটকদের মুগ্ধ করার মতো অসংখ্য আকর্ষণ রয়েছে। এই গ্রামটি ট্রেকার, হাইকার, ফটোগ্রাফার এবং পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি স্বর্গ। এখানে আপনি এমন অনেক পাখি দেখতে পাবেন, যা সম্ভবত অন্য কোথাও দেখেননি বা সম্পর্কে শোনেননি। আপনি যদি দার্জিলিং ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে এই জায়গাটি অবশ্যই একবার ঘুরে আসতে পারেন। কোলাহল থেকে দূরে একটি আরামদায়ক ছুটির জন্য এটি একটি উপযুক্ত গন্তব্য।
আরও পড়ুনঃ ঘুম ভাঙবে পাখির কলতানে, গরমের ছুটিতে ঘুরে আসুন উত্তরবঙ্গের এই ৪ হিল স্টেশন থেকে
রঙ্গীত মাজুয়া
এবার আসা যাক উত্তরবঙ্গের আরও এক অফবিট ডেস্টিনেশন রঙ্গীত মাজুয়া নামের এক সুন্দর গ্রামের প্রসঙ্গে। এটি একটি সত্যিকারের হিডেন জেম, সুন্দর হিমালয়ান গ্রাম। এই ছবির মতো সুন্দর গ্রামটি সিঙ্গালিলা বনাঞ্চলে ঘেরা, যেখানে অচিরাচরিত উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। যারা একাকীত্ব, শান্তি এবং নিরিবিলি পরিবেশ উপভোগ করতে চান তাঁদের জন্য এই জায়গা একদম আদর্শ। এখানে আপনি পাখিদের মনোমুগ্ধকর ডাক এবং বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতির জাদুকরী নাচ দেখে অনায়াসেই কয়েকটা দিন কাটিয়ে দিতে পারবেন।












