চাঁদে বানানো হবে স্থায়ী বসতি! ৫৩ বছর পর চন্দ্রাভিযানে মানুষ পাঠাল নাসা

Published:

NASA Rocket Launch

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। অবশেষে ৫৩ বছর পর আবারো চাঁদের অভিমুখে যাত্রা শুরু করল মানুষ। হ্যাঁ, আজ অর্থাৎ ২ এপ্রিল ভারতীয় সময় ভোর ৩:০৫ মিনিট নাগাদ ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে নাসার শক্তিশালী SLS রকেটটি চারজন মহাকাশচারীকে নিয়ে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে বলে খবর (NASA Rocket Launch)। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ (Apollo 17) মিশনের পর এই প্রথম কোনও মানুষ্যবাহী মহাকাশযান চাঁদের কক্ষপথের দিকে রওনা দিয়েছে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, এবার মহাকাশচারীরা নাকি চাঁদে স্থায়ী বসতি করার লক্ষ্যেই গিয়েছে।

কারা রয়েছেন এই ঐতিহাসিক যাত্রায়?

বেশ কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী, আর্টেমিস ২ মিশনের এই চারজন সাহসী অভিযাত্রী হলেন মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ যিনি চাঁদে যাওয়া প্রথম মহিলা মহাকাশচারী হতে চলেছেন, আর কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির প্রতিনিধি জেরেমি হ্যানসেন। বর্তমানে এই চারজন ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে আনুমানিক ৯৬০০ কিলোমিটার বেগে চাঁদের দিকে এগিয়ে চলেছেন বলেই খবর।

প্রসঙ্গত, আর্টেমিস ২ কোনও অবতরণ অভিযান নয়, বরং এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষামূলক সফর। এই ১০ দিনের যাত্রায় প্রথমত মহাকাশচারীরা চাঁদের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাবেন এবং চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবেন। দ্বিতীয়ত, গভীর মহাকাশে ওরিয়ন ক্যাপসুলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আর মহাকাশচারীদের জীবনদায়ী ব্যবস্থাগুলি পরীক্ষা করা হবে। তৃতীয়ত, ফেরার পথে ওরিয়ন ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটার গতিতে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করবে। আর শেষে প্যারাসুটের সাহায্যে প্রশান্ত মহাসাগরে ক্যাপসুলটি অবতরণ করবে।

বলে দিই, নাসার এই মিশনের মূল লক্ষ্য হল চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি বা বেস ক্যাম্প তৈরি করা। আর আর্টেমিস ২ সফল হলে তার উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী মিশনে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষ নামাবে নাসা। এমনকি চাঁদের কক্ষপথে গেটওয়ে নামক একটি ছোট্ট মহাকাশ স্টেশন তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি একটি লঞ্চপ্যাড ব্যবহার করে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর নীল নকশাও তৈরি করে ফেলেছে নাসা।

আরও পড়ুন: এপ্রিলে বদলে গেল রেলের দুটি বড় নিয়ম, প্রভাব পড়বে যাত্রীদের ওপর

এদিকে উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টা পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিও শেয়ার করে ফেলেছে নাসা। সেখানে দেখা দিয়েছে যে, পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে যাওয়ার সময় চারজন মহাকাশচারী সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদে রয়েছেন। পাশাপাশি চাঁদের অন্ধকার পিঠ দিয়ে যাওয়ার সময় সাময়িকভাবে পৃথিবীর সঙ্গে তাদের রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে। এখন দেখার, এই মিশন সফল হয় কিনা।

google button