সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সাফল্য কখন কার কাছে কীভাবে ধরা দেয় তা কেই বা বলতে পারে! রাজস্থানের রামভজন কুমাবতের (Ram Bhajan) জীবন ঠিক এরকমই। দারিদ্র্যের চরম কষাঘাত, বাবার মৃত্যু, সাত-সাতবার ব্যর্থতা সত্ত্বেও তিনি কোনও কিছুতেই দমে থাকেননি। কোনও বাধা তাঁর অদম্য জেদকে টলাতে পারেনি। অষ্টম প্রচেষ্টায় ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ (UPSC Success Story) হয়ে তিনি প্রমাণ করলেন যে, কঠোর পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে সব কিছুই সম্ভব।
পাথর ভাঙার কাজ থেকে শুরু হয় জীবন
প্রসঙ্গত, রাজস্থানের দৌসা জেলার বাপি গ্রামে এক অতি দরিদ্র পরিবারে তাঁর জন্ম। অভাব ছিল ছোটবেলার সঙ্গী। মাত্র ১৪-১৫ বছর বয়সেই তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে পাথর ভাঙার কাজ করতে যেতে হতো। পাথরের আঘাতে হাত-পা রক্তাক্ত হতো। কিন্তু হ্যাঁ, পেটের টানে কাজ থামানোর কোনও উপায় ছিল না। এরই মধ্যে করোনা মহামারীর সময় তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। আর পরিবারের আর্থিক অবস্থা তখন আরও শোচনীয় হয়ে পড়ে। সংসারের হাল ধরতে তাঁকে দিনমজুরের কাজ করতে হয়।
তবে চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও রামভজন তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যান। আর নিজের মেধার জেরেই তিনি দিল্লি পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর লক্ষ্য ছোট ছিল না। কনস্টেবলের চাকরি পেয়ে থেমে থাকতে চাননি তিনি। চাকরির পাশাপাশি রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও সম্পন্ন করেছিলেন। এরপর শুরু হয় দেশের কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসির প্রস্তুতি।
৮ বছরের যুদ্ধে অবশেষে সাফল্য
রামভজনের জয়যাত্রা মোটেও যে সহজ ছিল এমনটা নয়। জানা যায়, ২০১৫ সালে তিনি প্রথমবার ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তবে এরপর টানা সাতবার ব্যর্থতার স্বাদ ভোগ করতে হয়েছে তাঁকে। ২০১৫ থেকে ২০২১ টানা সাতটি প্রচেষ্টা, কখনো প্রিলিমিনারি, কখনো মেইনস পরীক্ষায় তিনি আটকেছেন। আর ২০১৮ সালে মেইনস পাস করলেও ইন্টারভিউর পর আর মেরিট লিস্ট নাম আসেনি। তবে ধৈর্য হারাননি তিনি। সাতবার ফেল করার পর যে কেউ হাল ছেড়ে দিত। কিন্তু রামভজন জানতেন যে তাঁর লড়াই শুধুমাত্র নিজের জন্য নয়, বরং তাঁর পরিবারের দারিদ্রতা ঘোছানোর জন্যই।
আরও পড়ুন: গ্রাহকদের বিরাট ঝটকা! জনপ্রিয় এই প্ল্যানের মেয়াদ ৬০ দিন কমিয়ে দিল Jio
সবথেকে বড় ব্যাপার, দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে হাড়ভাঙা খাটুনির পর হাতে খুব কম সময় থাকতো। আর ডিউটি সেরে এসেই প্রতিদিন নিয়ম করে সাত থেকে আট ঘণ্টা তিনি পড়াশোনা করতেন। এমনকি নিজে নোট বানাতেন, আর সেলফ স্টাডির উপরেই জোর দিতেন। তারই মধ্যে তাঁর বিয়ে হয় এবং বারে পারিবারিক দায়িত্ব। তবে তিনি লক্ষ্য থেকে কোনও রকম বিচ্যুত হননি। অবশেষে ২০২২ সালে নিজের অষ্টম প্রচেষ্টায় তিনি ইতিহাস গড়ে ফেলেন। ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সারা ভারতে ৬৬৭ তম র্যাঙ্ক অর্জন করেন। আর কনস্টেবল থেকে সরাসরি অফিসার পদে উন্নিত হওয়ার সেই খবর আসতেই খুশির হাওয়া বয় তাঁর পরিবার এবং সহকর্মীদের মধ্যে।












