সৌভিক মুখার্জী, ভাঙড়: বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের উত্তপ্ত ভাঙড়। ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার গাড়ি লক্ষ্য করে এবার করা হল বোমাবাজি (Attack on Saokat Molla)। ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, আইএসএফের মদতেই এই হামলা এবং বোমাবাজি ঘটনা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ শিদ্দিকি। শনিবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ ঘটে এই ঘটনা, যা নিয়ে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
তৃণমূল বিধায়কের গাড়িতে বোমাবাজি
শনিবার সন্ধ্যায় ভাঙড়ের পোলেরহাট থানার গাজীপুরে একটি দেওয়াল লিখনের জন্য আইএসএফ দখল করেছিল। আর তার পাশেই দেওয়াল দখল করেছিল শাসকদল। তবে আইএসএফ অভিযোগ করে যে, তাদের দেওয়াল লেখা মুছে ফেলা হয়। আর জোর করেই সেই জায়গা দখল করা হয়। এমনকি অশান্তির মাঝে স্থানীয় তৃণমূল নেতা খইরুল ইসলাম সহ বেশ কয়েকজন নেতা সেখানে যান আর আইএসএফ-এর সঙ্গে তাদের অশান্তি এবং ধস্তাধস্তিও বাঁধে। দুই পক্ষের ঝামেলায় আইএসএফ এবং তৃণমূলের বেশ কয়েকজন আহত হন বলেও খবর। এমনকি আইএসএফ হামলা করে তৃণমূলের দুটি গাড়ি ভাঙচুরও চালায়।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা মিটিং সেরে বাড়ি যাচ্ছিলেন। ফেরার পথে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়। এমনকি বোমাবাজি করা হয়। শওকতের দাবি, ওরা এক রাউন্ড গুলিও চালিয়েছে এবং বোম ছোঁড়া হয়। কোনও মতে গাড়ির সিটের পিছনে লুকিয়ে তিনি নিজের প্রাণ বাঁচান। এমনকি তাঁর কনভয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থল থেকে দুটি তাজা বোমা এবং বোমার সুতলি উদ্ধার করা হয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আর তিনি দাবি করছেন, দক্ষিণ গাজীপুরের তৃণমূল নেতা খইরুল ইসলামের উপর হামলার ঘটনার অভিযোগ জানিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়েছে। আইএসএফ-এর বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেছেন ক্যানিং বিধায়ক। তবে নওশাদ শিদ্দিকি এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, যিনি বলেছেন তিনিই নাকি আক্রমণ করেছেন।
ঘটনার পরপরই কাশিপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে আর তল্লাশি শুরু হয়। ইতিমধ্যে পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এমনকি গোটা এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়। আর ভোটের আগে যে এই নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে তাও বলার অপেক্ষা রাখে না। তৃণমূলের নেতারা দাবি করে, শান্তিপূর্ণভাবে সভা চলছিল। তবে সভা শেষ হওয়াতে বিধায়ক বাড়ি ফেরার পথেই ওরা বোমা ছোঁড়ে। আগে থেকে পরিকল্পনা ছিল শওকত মোল্লার উপর হামলার। তবে সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গিয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।












