কী এই ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’? বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহিলাদের জন্য বড় বাজি তৃণমূলের

Published:

Lakshmi Elo Ghore
Follow

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই, তাই জনসংযোগ বাড়াতে এখন থেকেই ময়দানে নেমে পড়েছে রাজনীতিবিদরা। শাসকদলের তরফে নেওয়া হয়েছে একাধিক কর্মসূচি। তবে এবার ভোট প্রচারের স্বার্থে এক নয়া চমক নিয়ে এলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি প্রকল্পগুলি নিয়ে তৈরি হল নয়া তথ্যচিত্র। নাম রাখা হয়েছে “লক্ষ্মী এল ঘরে” (Lakshmi Elo Ghore)। গ্রাম এবং শহর এলাকার গরিব অঞ্চলের কথা মাথায় রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে এই চলচ্চিত্র।

লক্ষ্মী এল ঘরে তথ্যচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে সরকারি প্রকল্পগুলি

চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ব্যারাকপুরের বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে তৈরি হয়েছে “লক্ষ্মী এল ঘরে” তথ্যচিত্রটি। যেখানে অভিনয় করেছেন টলিউডের জনপ্রিয় নায়িকা শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। ৫৫ মিনিটের এই তথ্যচিত্রে গ্রামীণ বাংলার এক তরুণী বিধবার কাল্পনিক কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। স্বামীর হঠাৎ মৃত্যুতে তাঁর জীবন চরম দারিদ্র্য ও পিতৃতান্ত্রিক রীতিনীতির জালে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি শাশুড়ির কাছেও অপমান ও বঞ্চনা শুনতে হয় বৌমাকে। পরে যখন তিনি রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো, যেমন- লক্ষ্মীর ভান্ডার, খাদ্যসাথী, কৃষক বন্ধু, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী ও বাংলার বাড়ির সুবিধা নেয়। তখন থেকেই তাঁর জীবন পারিবারিক বিদ্বেষও কমতে থাকে, এবং শাশুড়ির সঙ্গেও সম্পর্ক বেশ ভালো হতে থাকে।

কী বলছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?

তথ্যচিত্রে শাশুড়ির চরিত্রে রয়েছেন সোহিনী সেনগুপ্ত। ছবিতে অভিনয় করেছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা, ভাস্কর মুখোপাধ্যায় ও অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বুধবার রাতে নন্দনে ‘লক্ষ্মী এলো ঘরে’ এই তথ্য চিত্রটি তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের সাংসদ এবং মন্ত্রী এবং তামিলনাড়ু চলচ্চিত্র শিল্পের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে প্রিমিয়ার হয়েছিল। ছবিটি দেখার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যে কোনও নির্বাচিত সরকারের কর্তব্য ও দায়িত্ব হল তার সম্পূর্ণ কার্যকাল জুড়ে কাজ করে যাওয়া।” তিনি যোগ করেন, “এই তথ্যচিত্রে সাত-আটটি প্রকল্প তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু এমন আরও অনেক প্রকল্প চালু আছে।”

আরও পড়ুন: ‘সংখ্যালঘুদের ক্ষোভ বৈধ, ওদের বলব পাশে আছি’ বেলডাঙ্গা নিয়ে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে, “কেন্দ্রের কাছে বাংলার প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে, কিন্তু আমরা তাদের দয়াতে টিকে নেই। আমাদের সরকার দেখিয়ে দিয়েছে আত্মনির্ভর বাংলা মানে কী।” ছবিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে দেড় দশকের বেশি সময় ধরে মহিলা সমর্থনই মমতার অন্যতম রাজনৈতিক পুঁজি। যা ক্রমে দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়েছে। ছবির প্রদর্শন শেষে রাজ জানিয়েছেন, ১৫ দিনের মধ্যে এই ছবি নির্মাণ করতে হয়েছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। অভিষেক নিজে চিত্রনাট্য শুনে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now