প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পরিকল্পনা ছিল আগেই, অবশেষে আজ, বিহার বিধানসভার সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিলেন JDU নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ নীতীশ কুমার (Nitish Kumar Resigns)। চলতি মাসের শুরুতেই, ৯ মার্চ রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হন নীতীশ কুমার (Nitish Kumar)। জানা গিয়েছে যেহেতু একসঙ্গে তিনি বিধায়ক ও সাংসদ- উভয় পদে থাকতে পারেন না, তাই ইস্তফা। অন্যদিকে বিধায়ক পদ থেকে এখনও ইস্তফা দেওয়া বাকি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের। আশা করা হচ্ছে সেই আজই ইস্তফা দেবেন।
ইস্তফা দিলেন নীতীশ কুমার
চলতি মাসে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পরে আজ, সোমবার বিধায়কপদ থেকে ইস্তফা দিলেন JDU সভাপতি নীতীশ কুমার। তাঁর হয়ে বিধানসভার সচিবালয়ে গিয়ে সোমবার ইস্তফা পত্র জমা দিয়েছেন জনতা দল (ইউনাইটেড) নেতা এবং MLC সঞ্জয় গান্ধী। সংবিধান অনুযায়ী, কোনও রাজ্যের বিধান পরিষদের সদস্য সংসদে নির্বাচিত হলে ১৪ দিনের মধ্যে যে কোনও একটি পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়। ১৬ মার্চ রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন নীতীশ। পাশাপাশি, বিহার বিধানসভার সদস্য এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে ধোঁয়াশা
বিধায়কপদ থেকে ইস্তফা দিলেও নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকবেন বলে খবর। অন্তত ছমাস নীতীশ রাজ্যের বিধানসভা কিংবা বিধান পরিষদের সদস্য না হয়েও মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারবেন। অর্থাৎ তিনি হতে পারেন সেই মুখ্যমন্ত্রী যিনি রাজ্যসভার সদস্য হয়েও কোন একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যাবেন। কিন্তু ছয় মাসের মাথায় তাঁকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়তেই হবে। অনেকের ধারণা, বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন বিজেপি নেতা তথা বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। কিন্তু কবে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এগিয়ে দেবেন সে ব্যাপারে কোনও পক্ষই নিশ্চিত নয়। বিজেপি এবং JDU নেতারা বলছেন এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত যা নেওয়ার নীতীশ কুমারই নেবেন।
আরও পড়ুন: শিলিগুড়ির নাবালিকার মৃত্যু, অবশেষে ধৃত গৃহশিক্ষক, ধরনা তুললেন শঙ্কর ঘোষ
শোনা যাচ্ছে, সরকার প্রধানের পদ নিয়ে বিজেপি সঙ্গে নীতীশের বোঝাপড়া নিয়ে তাঁর দল জেডিইউর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। গতকাল, রবিবার দলের সংসদ দম্পতি আনন্দমোহন ও তাঁর স্ত্রী লাভলী আনন্দ, পাটনায় সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছেন নীতীশ কুমারের মাঝপথে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে জেডিইউ’র কর্মী সমর্থকেরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। এতে ভোট ব্যাংকে বড় প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি আগামী ১০ এপ্রিল তাঁর মুখ্যমন্ত্রী পর থেকে সরে যাওয়ার কথা নীতিশ কুমারের। অনেকেই চাইছেন নীতীশ সরে গেলে পুত্র নিশান্তকে মুখ্যমন্ত্রী করা হোক। এখন দেখার কে হবে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী।












