প্রীতি পোদ্দার, নয়া দিল্লি: গত বৃহস্পতিবার চলতি অধিবেশনের ১৪তম দিনে ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ (One Nation One Election) এর প্রস্তাবে সায় দিয়েছিল মোদির মন্ত্রিসভা। এবং অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছিল সংসদের চলতি অধিবেশনেই এই বিল পেশ করতে চলেছে মোদি সরকার। প্রথমে ঠিক হয়েছিল যে শীতকালীন অধিবেশনে না হলেও আগামী ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ বিল পেশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে প্রবল। আর এবার সেই সম্ভাবনাই সত্যি হল।
সংসদে প্রথমবার ইলেকট্রনিক ভোটিং পদ্ধতি
অবশেষে আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার, লোকসভায় ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল। আর কক্ষে এই বিল পেশ হতেই সঙ্গে সঙ্গে এর বিরোধিতায় সরব হন ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা। কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি-সহ বিরোধী জোটের অন্য দলগুলি এই বিলের বিপক্ষে সুর চড়ায়। বিরোধী সাংসদদের বক্তব্য, এই বিল সংবিধানের মূল কাঠামোতেই আঘাত হানবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মত একনায়কতন্ত্র কায়েম করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ বিরোধী দলগুলির। এদিন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিল পেশের ক্ষেত্রে ভোটাভুটি চান। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তাতে সায় দিতেই ‘এক দেশ এক ভোট’-বিল পেশের পক্ষে ও বিপক্ষে ভোটাভুটি শুরু হয়।
কী বললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?
এই নয়া বিল পেশের মাধ্যমে প্রথমবার সংসদের নয়া ভবনে ইলেকট্রনিক ভোটিং পদ্ধতিতে ভোটাভুটি হয়। তবে প্রথমবার প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে অসুবিধা হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় ফের ভোটাভুটি হয়। দ্বিতীয় দফা শেষে দেখা যায়, ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ বিল পেশের পক্ষে ভোট পড়েছে ২৬৯টি এবং বিপক্ষে পড়েছে ১৯৮টি। এই বিষয়ে মন্তব্য করতে ছাড়েনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘সংসদে যখন সংবিধান বিতর্ক এখনও চলছে, আজকে একটি সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পেশ করার জন্য বিজেপির নির্লজ্জ প্রচেষ্টা গণতন্ত্রের উপর একটি নির্লজ্জ আক্রমণ থেকে কম নয়৷ ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন বিল জনগণের ভোট দেওয়ার মৌলিক অধিকার হরণ করতে চায়’।
বিরোধীরা এই পরিকল্পনায় আপত্তি জানাতে পারে তা আগেই আন্দাজ করেছিল কেন্দ্র। তাই আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিল দু’টি ওই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন মেঘওয়ালকে। তাই কক্ষে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী জানান, বিল দু’টি নিয়ে আরও আলোচনার জন্য তাঁরা সংসদের যৌথ কমিটিতে এই বিল পাঠাতে চান। তবে এই সংক্রান্ত বিল পাশে মোদী সরকারের যুক্তি যে এই ব্যবস্থা চালু হলে ভোট প্রক্রিয়ার জন্য যে বড় অঙ্কের খরচ হয়, তা অনেকটাই কমে যাবে। এবং নির্বাচনের জন্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ থমকে থাকবে না।
গুরুত্বপূর্ণ খবরের জন্য | Join Group |
চাকরির খবরের জন্য | Join Hood Jobs |
রাশিফলের জন্য | Join Hood Rashifal |
খেলার খবরের জন্য | Join Whatsapp |