বাংলায় ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’? কমিশনের বিরুদ্ধে এবার গর্জে উঠলেন মমতা

Published:

Mamata Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় এসে গিয়েছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), হাতে বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে হবে বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই বিজেপি এবং CPIM প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে এনেছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে। তাই এখন তুমুল ভোট প্রচার শুরু হয়েছে রাজনীতিবিদদের। এই অবস্থায় ফের নির্বাচন কমিশনারকে নিশানা করল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। অঘোষিত জরুরি অবস্থা নিয়ে গর্জে উঠলেন তিনি।

কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা

রিপোর্ট মোতাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ, নিজের এক্স হ্যান্ডেলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি পোস্টে লেখেন, “নির্বাচন কমিশন যেভাবে বাংলাকে আলাদাভাবে টার্গেট করে একের পর এক নিশানা করেছে, তা শুধু নজিরবিহীনই নয় বরং গভীর উদ্বেগের। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ প্রায় ৫০ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন একাধিক এডিজি, আইজি, ডিআইজি এবং জেলাশাসকরা। তাই, এটি কোনও সাধারণ প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং এটি একটি ‘সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’।”

নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের ট্রান্সফার নিয়ে প্রশ্ন মমতার

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে নির্বাচন কমিশনকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করেছেন। তিনি লিখেছেন, “শিলিগুড়ি ও বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারদের কোনো বিকল্প ছাড়াই পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ শহর কিছু সময়ের জন্য কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। এমনকি যে আধিকারিকদের এতদিন ‘নির্বাচনী কাজের অযোগ্য’ বলে সরানো হচ্ছিল, তাঁদেরই দেখা যাচ্ছে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভিন রাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে। যা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, “আইবি, এসটিএফ এবং সিআইডির মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখার অফিসারদের সরিয়ে দেওয়ায় প্রশাসনিক কাঠামো পঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যা নাগরিকদের মধ্যে উদ্বিগ্ন ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।”

অঘোষিত জরুরি অবস্থা প্রসঙ্গে মমতা

তৃণমূল সুপ্রিমো নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ শানিয়ে জানান যে, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখনও সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া বিতর্কিত এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং নাগরিকত্ব প্রমাণের বাধ্যবাধকতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এটি কোনো সুশাসন নয়। এটি বিশৃঙ্খলা, বিভ্রান্তি এবং চরম অযোগ্যতা, যাকে ক্ষমতার মোড়কে চালানো হচ্ছে। এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং জোরজুলুম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কারসাজির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের নিয়ন্ত্রণ দখল করার পরিকল্পনা। আমরা যা দেখছি তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দ্বারা পরিচালিত একটি অঘোষিত জরুরি অবস্থা এবং রাষ্ট্রপতির শাসনের এক অপ্রকাশিত রূপ।”

আরও পড়ুন: সিভিক ভলান্টিয়ারদের বোনাস বাড়াল নবান্ন! এক ধাক্কায় বাড়ল এত টাকা

নির্বাচন কমিশনকে দোষ দেওয়ার পাশাপাশি এদিন বিজেপিকেও এক হাতে নেন তৃণমূল সুপ্রিম তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে ব্যর্থ হয়ে বিজেপি বাংলাকে কব্জা করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাইতো স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য করতে হচ্ছে। তবে বাংলা লড়বে, বাংলা প্রতিরোধ গড়বে এবং এই মাটিতে কোনো বিভাজনমূলক ও ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিটি চেষ্টাকে বাংলা চূড়ান্তভাবে পরাজিত করবে।”

google button