সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। তবে তার আগেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির তৎপরতাকে ঘিরে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে রাজ্যের রাজনীতিতে। জমি দখল এবং পুরনিয়োগ দুর্নীতি, এই দুই মামলায় তৃণমূলের তিন হেভিওয়েট প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক ও মন্ত্রীদের তলব করেছে ইডি (ED Summons on TMC Leaders)। শুক্রবার রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশীষ কুমার হাজরাকে তলব করার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার সুজিত বসু এবং রথীন ঘোষকে তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সিজিও কমপ্লেক্সে দেবাশীষ কুমার
আসলে জমি দখল সংক্রান্ত মামলায় শুক্রবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছিলেন দেবাশীষ কুমার। এর আগে গত সোমবারও তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসা করে সংস্থা। ইডি সূত্রে খবর, বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে ওঠা জমি দখলের প্রায় ১৬ থেকে ১৭টি অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত চালানো হয়েছে। ইডির জিজ্ঞাসাবাদের পর দফতর থেকে বেরিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে তিনি মুখ খোলেননি। কিন্তু গত সোমবার তিনি জানিয়েছিলেন, তদন্তের স্বার্থে যখনই ডাকা হবে তিনি সেখানে যাবেন।
এবার সুজিত এবং রথীনকে তলব
এদিকে দেবাশীষ কুমারের হাজিরার দিনই ইডির পক্ষ থেকে আরও দুই হেভিওয়েট নেতাকে তলব করা হয়েছে। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছে বিদায়ী দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু এবং খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের। সুজিত বসু যিনি বিধাননগর কেন্দ্রের প্রার্থী, তাঁকে আগামী ৬ এপ্রিল তলব করা হয়েছে। আর মধ্যমগ্রামের প্রার্থী রথীন ঘোষকে আগামী ৮ এপ্রিল কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। ভোটের মুখে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের এই ডাক যে তৃণমূলের ভেতরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বাড়াচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আরও পড়ুন: গরম কাটিয়ে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়, শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা, আগামীকালের আবহাওয়া
উল্লেখ্য, নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে এই ধারাবাহিক তলব নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। জোড়াফুল শিবিরের দাবী, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিজেপি ভোটের ময়দানে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। কেবলমাত্র তৃণমূল প্রার্থীদেরকেই তলব করা হচ্ছে কেন? যদিও ইডির দাবি, দীর্ঘদিনের তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ।












