প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) কেন্দ্র করে এবার দুটি কেন্দ্র বারংবার খবরের শিরোনামে উঠে আসছে। একটি হল ভবানীপুর এবং অপরটি হল নন্দীগ্রাম (Nandigram)। কে জিতবে সেই নিয়ে রীতিমত দর কষাকষি চলছে। এমতাবস্থায় নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে নিশানা করলেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তাঁর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ কমিশনের কানে উঠতেই FIR দায়ের করা হল পবিত্র করের (Pabitra Kar) বিরুদ্ধে। রীতিমত রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে এলাকা জুড়ে।
চাঞ্চল্যকর অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারীর
গতকালই সাংবাদিকদের সামনেই নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন যে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পবিত্র কর বিজেপির টিকিটে পঞ্চায়েতের সদস্য হিসেবে জয়ী হয়েছেন। কিন্তু তিনি পঞ্চায়েতের সদস্যপদ ত্যাগ না করে তৃণমূলের টিকিটের বিধানসভায় প্রার্থী হয়েছেন। আমি স্ক্রুটিনির সময় কোনও অবজেকশন দিইনি। আমার অবজেকশন দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করলে তার প্রার্থী পদ বাতিল হতে পারে।” আর এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই পবিত্র করের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। শোরগোল পড়ে যায় রাজনৈতিক মহলে।
FIR দায়ের করল নির্বাচন কমিশন
রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগের পরেই নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করল নির্বাচন কমিশন। এদিকে এফআইআর দায়ের করা প্রসঙ্গে জবাব পেতে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর বলেন, ‘‘আমি এই সংক্রান্ত বিষয়ে অবগত নই। তবে আমি যে পদক্ষেপ করব তা আইনমাফিক হবে।’’এ বার বিধানসভা নির্বাচনে সুমন কাঞ্জিলাল, হরকালী প্রতিহার, তাপসী মণ্ডল, তন্ময় ঘোষের মতো বিজেপি বিধায়ক যাঁরা তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন, তাঁদের সকলেরই বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছে। তাই এবার পবিত্র করের পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়া থেকে বাদ পড়বেন অভিষেক শর্মা! তাঁর জায়গায় খেলবেন বৈভব সূর্যবংশী? বড় খবর
আসলে নিয়ম হল কোনও রাজনৈতিক নেতা যদি দলবদল করে ভোটে লড়াই করেন এবং আগের কোনও রাজনৈতিক দলের থেকে জনপ্রতিনিধি হয়ে থাকেন, তবে তাঁকে ওই পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়। এখন দেখার আইনি মাধ্যমে পবিত্র কর কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, প্রথমদিকে তৃণমূল করলেও ২০২০ সালে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। হয়েছিলেন বিজেপির ব্লক সভাপতিও। কিন্তু ১৭ মার্চ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে এসে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তিনি ফের তৃণমূলে যোগদান করেন।












